প্রকাশিত:
১০ জুলাই ২০২৫, ১৫:০৬
জাতীয় নাগরিক পার্টি'র (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, আমরা জুলাই সনদের জন্য আবার ৩ আগস্ট শহীদ মিনারে মিলিত হব। জুলাই সনদ না দেওয়া হলে সেদিন আমাদের পেছনে ফেরার আর কোনো উপায় থাকবে না। আমরা ড. ইউনুসকে বলছি- এই জুলাই সনদ কিন্তু কোনো কবিতা না, কোনো রাজনৈতিক রেটোরিক না, এটা আমাদের পরবর্তীতে বাঁচার সনদ। এটা দ্বিতীয় বাংলাদেশের তফসিল, তাই জুলাই সনদ দিতেই হবে।
বুধবার (৯ জুলাই) রাত ১১ টার দিকে ‘সংস্কার, বিচার ও সংবিধান পরিবর্তন’ উপলক্ষে ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে আয়োজিত সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।
হাসনাত আব্দুলাহ বলেন, রাজনীতিবীদদের জন্য আমরা রাজনীতি কঠিন করে দেব এবং আমরা সেটা করে দেখিয়েছি। আমরা দ্বিমত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করব। আমাদের সমাজে একসেস থাকবে না শুধুমাত্র ফ্যাসিবাদের, যারা আমাদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে রুদ্ধ করতে চায় তাদের। নিকাব পরার স্বাধীনতাও থাকবে, না পরার স্বাধীনতাও থাকবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা আপনাদের প্রশ্নের ঊর্ধ্বে উঠতে পারব না। কারণ আমরা এমন একটা সময় এখন রাজনীতিতে করতে আসছি যখন একেকটা ফোন একেকটা মিডিয়া। গত দু’তিন-দিন আগে আমরা মিডিয়াকে চ্যালেঞ্জ করেছি না? এদের হাজার হাজার কোটি টাকার ইনভেস্টমেন্ট। কিন্তু আমাদের ১২ হাজার টাকার একেকটা মোবাইলের সামনে কিন্তু ওরা দাঁড়াতে পারেনি। ওরা আজকে দুঃখ প্রকাশ করে বিবৃতি দিছে। আমরা একেকটা মানুষ একেকটা মিডিয়া ও সাংবাদিক। আমরা একেকটা মানুষ একেকটা প্রশ্নকর্তা। সুতরাং আমি ২ জনের চোখ ফাঁকি দিতে পারব, ১০ জনের চোখ ফাঁকি দিতে পারব কিন্তু আপনাদের ১০০ জনের ২০০টি চোখ ফাঁকি দিতে পারব না।
তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় নাম শুনলেই আমাদের সীমাবদ্ধতা কাজ করে, ভাইভা বোর্ডে মনে করে এরা বড় মাদ্রাসা থেকে এসেছে। এসব সংস্কৃতি চর্চা বন্ধ করা হবে। আপনারা একটি সিটের বিনিময়ে আপনাদের মেরুদণ্ড বিক্রি করে দিবেন না। আমরা আর ঐ বাংলাদেশে ফিরে যেতে চায় না- যে বাংলাদেশে একটি স্টাটাস দিলে ডেকে নিয়ে ডিলিট করায় উপরন্তু হল থেকে বের করে দেয়। আমাদের বাংলাদেশ হবে বাক স্বাধীনতার দেশ, প্রতিবাদ চেতনার দেশ। যারা বাক স্বাধীনতাকে রুদ্ধ করতে চাইবে তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় হবে মুক্ত চিন্তার জায়গা। আপনারা সবাই অধিকার নিয়ে স্বাধীনভাবে কথা বলবেন এবং প্রতিবাদী চেতনা লালন করবেন।
উল্লেখ্য, সমাবেশে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব ডাক্তার তাসনিম জারা, মূখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী-সহ কেন্দ্রীয় নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ইবির সমন্বয়ক এস এম সুইট, সহসমন্বয়ক ইয়াশিরুল কবীর সৌরভ ও তানভীর মাহমুদ মন্ডলসহ অন্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন: