প্রকাশিত:
২০ আগষ্ট ২০২৫, ১৭:৩৮
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো) সারাদেশে বিদ্যুতের অপচয় রোধকল্পে এবং ভূতুড়ে বিলের লাগামহীন হয়রানি থেকে গ্রাহকদের নিস্তার দিতে ২০২৪ সালে বিদ্যুৎ বিল প্রথা বিলুপ্ত করে গ্রাহকের মাঝে প্রিপেইড মিটার বসানোর কার্যক্রম শুরু করে।
এই সিস্টেমের আওতায় কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভা এবং আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) গ্রাহকদের পুরনো মিটার জমা নিয়ে গ্রাহককে নতুন করে প্রিপেইড মিটার সংযোগ দেয়া শুরু করেছেন। চকরিয়া পিডিবির আওতাধীন বিভিন্ন বাসাবাড়ি, দোকানপাট ও মার্কেটের ৪০ হাজার গ্রাহকের মধ্যে দেড়বছরে ২২ হাজার গ্রাহকের মাঝে প্রিপেইড মিটার লাগানোর কাজ শেষ করেছে।
এখনও এই সিস্টেমের আওতায় আরও ১৮ হাজার গ্রাহকের মাঝে প্রিপ্রেইড মিটার লাগানোর কাজ বাকি রয়েছে। অবশ্য বর্তমানেও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট লোকজন গ্রাহকের পুরনো মিটার বদলে দিয়ে প্রিপেইড মিটার লাগানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
অভিযোগ উঠেছে, চকরিয়া পিডিবি কর্তৃক ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় লাগানো ২২ হাজার গ্রাহকের মধ্যে সিংহভাগ গ্রাহক প্রিপেইড মিটার নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। পাশাপাশি নতুন প্রিপেইড মিটার নিতে গিয়ে সংশ্লিষ্টরা নানা কায়দায় টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন।
বেশিরভাগ গ্রাহকের অভিযোগ, প্রিপেইড মিটারে টাকা লোড করার পর নানা কায়দায় অযথা টাকা কেটে নেয়া হচ্ছে। এ ছাড়া মিটারে নানারকম অসঙ্গতি নিয়ে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের। বিশেষ করে মিটারে যথাসময়ে টাকা রিচার্জ করতে না পারা, আবার টাকা লোড করার পর অতিরিক্ত চার্জ, মিটারের ভাড়া এবং অন্যান্য চার্জের নামে একটি বিশাল অঙ্কের টাকা কেটে নেয়া হচ্ছে। আবার টাকা লোড করতে গিয়ে মিটারে কারিগরি ত্রুটি দেখা দিচ্ছে।
অনেক সময় মিটার লক হয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় লক খুলতে বিদ্যুৎ অফিসে গেলে বা লাইসম্যানের দ্বারস্থ হতে গিয়ে সেখানে টাকার মাশুল গুনতে হচ্ছে। এরপরও গ্রাহকরা মিটারের বিলিং প্রক্রিয়া এবং রিচার্জ করার পদ্ধতি নিয়েও চরম বেকায়দায় পড়ছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, চকরিয়া পিডিবি কর্তৃক আগের পোস্টপেইড মিটার সরিয়ে নতুন প্রিপেইড মিটার বসাতে গ্রাহকদের নানাভাবে বাধ্য করা হচ্ছে। অথচ এই প্রিপেইড মিটারের ব্যবহার নিয়ে চলছে নানা অব্যবস্থাপনা ও অসঙ্গতি। মিটারে টাকা লোড করার পর কেটে নেয়া হচ্ছে অতিরিক্ত চার্জ। এমনকি মিটারে রিচার্জ করার পরই দ্রুত টাকা শেষ হয়ে যায়।
গ্রাহকদের অভিযোগ, কাগজের বিলের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে প্রিপেইড মিটারে। আবার টাকা শেষ হয়ে গেলে জরুরি ব্যালান্স নিতে গিয়ে দিতে হচ্ছে অতিরিক্ত চার্জ। মিটারে টাকা লোড করতে গিয়ে পোহাতে হচ্ছে নানামুখী ঝামেলা।
টাকা রিচার্জ করার সময় একসঙ্গে এতগুলো ডিজিট প্রবেশ করাতে গিয়ে ভুল হলেই মিটার ‘লক’ হয়ে যায়। তখন দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎহীন থাকতে হয় গ্রাহকদের। এ অবস্থায় মিটার আনলক করতে দিনের পর দিন ধরনা দিতে হয় সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ অফিসে। এসব কারণে গ্রাহকরা প্রিপেইড মিটারের পরিবর্তে আবার পোস্টপেইড মিটার স্থাপনের দাবি জানাচ্ছেন।
ভুক্তভোগী গ্রাহকরা জানিয়েছে, বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজন তাদের সঙ্গে চুক্তি মতে একটি কোম্পানির মাধ্যমে বিশেষ প্রকল্পের আওতায় ডিজিটাল মিটার স্থাপনের পরিবর্তে প্রি-পেইড মিটার স্থাপনের জন্য স্থানীয় বিদ্যুৎ গ্রাহকদের নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করছে।
এ অবস্থায় উপজেলার বিভিন্ন স্থানে প্রি-পেইড মিটার স্থাপন করতে গিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা হেনেস্তার শিকার হতে হচ্ছে। তবুও তারা অনেকটা জোর করেই প্রি-পেইড মিটার স্থাপন চালিয়ে যাচ্ছে।
অভিযোগ উঠেছে, প্রি-পেইড মিটার বসাতে গিয়ে লাগানো চার্জ বলে গ্রাহকের কাছ থেকে ৩০০-৫০০ টাকা করে হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে। এ ছাড়া লোড বৃদ্ধি করতে নেয়া হচ্ছে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা।
চকরিয়া বিদ্যুৎ বিভাগ (পিডিবি) সূত্রে থেকে জানা যায়, চকরিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ের আওতাধীন চকরিয়া পৌরসভা এবং ফাসিয়াখালী ইউনিয়ন, পূর্ববড় ইউনিয়ন আংশিকসহ বিভিন্ন এলাকায় মোট বিদ্যুৎ গ্রাহকের সংখ্যা ৪০ হাজার।
তার মধ্যে সরকারি সিদ্ধান্তের আলোকে গত দেড়বছরে ২২ হাজার গ্রাহকের মাঝে প্রিপেইড মিটার দেয়া হয়েছে বা বসানো হয়েছে। অবশিষ্ট ১৮ হাজার গ্রাহককেও প্রিপেইড মিটার দেয়ার কাজ করছেন বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজন।
জানতে চাইলে চকরিয়া বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো) বিভাগের আবাসিক প্রকৌশলী মোহাম্মদ নুরুন্নবী বলেন, প্রিপেইড মিটার হচ্ছে ডিজিটাল সিস্টেমে বিদ্যুৎ সরবরাহ। চকরিয়ায় ইতোমধ্যে ২২ হাজার গ্রাহককে প্রিপেইড মিটার সংযোগ দেয়া হয়েছে। বেশিরভাগ মিটার ভালো চলছে। তবে নতুন গ্রাহকরা সিস্টেম না বুঝার কারণে কিছু সমস্যা হলেই অভিযোগগুলো করছেন।
তিনি বলেন, আগের কাগজের বিলে সব সার্ভিস চার্জ লেখা থাকত। এখন টাকা লোড করার পর সেখান থেকে একই সার্ভিজ চার্জগুলো কাটা হচ্ছে।
এখানে অতিরিক্ত চার্জ কাটার সুযোগ নেই। আর প্রিপ্রেইড মিটারে টাকা লোড করতে যেসব অসঙ্গতি দেখা যাচ্ছে, তা নিরসনের জন্য আমরা কাজ করছি। গ্রাহকরা মোবাইল রির্চাজের মতো তার মিটার টাকা লোড করতে পারবে। সেইজন্য বিউবো কর্তৃপক্ষ ওয়ানস্টপ সুবিধা নিশ্চিত করতে যাচ্ছে।
আবাসিক প্রকৌশলী নুরুন্নবী আরও বলেন, পুরনো মিটার রেখে দিয়ে নতুন প্রিপেইড মিটার লাগানোর ক্ষেত্রে গ্রাহকের কাছ থেকে মিটার কেনার অজুহাতে টাকা নেয়ার সুযোগ নেই। কেউ যদি বিষয়টি নিয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করেন, তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্ত কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
মন্তব্য করুন: