প্রকাশিত:
১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৮:২৭
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় তৃতীয় ধাপের চলমান অবরোধের দ্বিতীয় দিনে, সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীদের তাণ্ডবে এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগে উপজেলা পরিষদ এবং ভাঙ্গা হাইওয়ে থানাসহ সরকারি বিভিন্ন স্থাপনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
সকালে উপজেলার বিভিন্ন সড়কে অবস্থান নিয়ে আন্দোলনকারীরা বিক্ষোভ ও মানববন্ধন শুরু করে। পুলিশ শুরু থেকে সতর্ক অবস্থানে থাকলেও, আন্দোলনকারীদের সংখ্যা বাড়তে থাকে। আশপাশের ইউনিয়ন থেকেও লোকজন এসে ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে জড়ো হয়।
বেলা সাড়ে ১০টার দিকে দক্ষিণপাড় বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আন্দোলনকারীরা টায়ার জ্বালিয়ে ও বৈদ্যুতিক খুঁটি ফেলে সড়ক অবরোধ করে। পুলিশের সঙ্গে টানা এক ঘণ্টা উত্তেজনা চলার পর পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়ে ওঠে।
দুপুর ১২টার দিকে আন্দোলনকারীরা লাঠিসোটা হাতে দক্ষিণপাড় বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পুলিশের ওপর চড়াও হয়। পুলিশ পিছু হটে ভাঙ্গা ঈদগাহ মারকাজ মসজিদে আশ্রয় নিলে, সেখানেও আন্দোলনকারীরা হামলা চালায়। এতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন এবং মসজিদের একটি জানালার গ্লাস ভেঙে পড়ে।
এরপরে আন্দোলনকারীরা ভাংগা থানায় গিয়ে থানার প্রধান ফটক এবং পুলিশের বেশ কয়েকটি গাড়িতে ব্যাপক ভাংচুর চালায়।
একাংশের আন্দোলনকারী এরপর ভাঙ্গা উপজেলা পরিষদে ঢুকে মূল ফটকের তালা ভেঙে ফেলে। তারা ইউএনও কার্যালয়সহ একাধিক দপ্তরে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। অফিসের গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, কম্পিউটার, আসবাবপত্র লুট করে নিয়ে যায় এবং কয়েকটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) সহকারী কামাল হোসেন বলেন, “হাজার হাজার আন্দোলনকারী হঠাৎ করে গেটের তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়ে। প্রথমেই ইউএনও স্যারের কক্ষে হামলা চালায়, তারপর একে একে সব দপ্তরে ভাঙচুর করে। আমরা জীবন নিয়ে পালাতে বাধ্য হই। ইউএনও স্যার নিরাপদে আছেন।"

অন্যদিকে, একদল আন্দোলনকারী ভাঙ্গা হাইওয়ে থানায় হামলা চালায়। থানায় অবস্থানরত পুলিশ সদস্যদের ওপর চড়াও হয়ে তারা একটি জলকামান, পুলিশের কয়েকটি গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনে ভাঙচুর করে। থানার অভ্যন্তরের কক্ষগুলোতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধন করে।
থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ রোকিবুজ্জামান বলেন, “প্রায় এক হাজার আন্দোলনকারী হঠাৎ করে থানায় হামলা চালায়। আমরা তখন ভিতরে অবস্থান করছিলাম। তারা পুরো থানায় ব্যাপক ভাঙচুর চালায়।”
থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোশারফ হোসেন জানান, “আন্দোলনকারীরা থানার প্রধান ফটকে এসে হামলা করে এবং থানার গাড়িগুলো ভাঙচুর করে।”
ভয়াবহ এই সহিংসতার পর পুরো ভাঙ্গা উপজেলাজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
মন্তব্য করুন: