প্রকাশিত:
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৭:৫৩
প্রায় চার দশক পর মাশুল বাড়িয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। আজ (সোমবার) থেকে বন্দর সেবায় গড়ে ৪১ শতাংশ বেশি মাশুল গুনতে হবে ব্যবহারকারীদের।
গেজেট অনুযায়ী, বন্দর এলাকায় প্রবেশের জন্য প্রতি গ্রজ টনে শূন্য দশমিক ৩০৬ ডলার এবং পোর্ট লিমিটের মধ্যে লাইটার ও ট্যাংকারের ‘ভ্যাসেল ওয়ার্কিং চার্জ’ ধরা হয়েছে শূন্য দশমিক ০১৭ ডলার। এছাড়া ডেঞ্জারাজ গুডস বহনকারী ভ্যাসেলের ক্ষেত্রে ঘোষিত চার্জের ওপর ২৫ শতাংশ, ডেড ভ্যাসেলের ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ, লাইটারেজের জন্য ৫০ শতাংশ এবং ডিলে বা ওভার স্টে চার্জ হিসেবে ৫ শতাংশ অতিরিক্ত মাশুল গুনতে হবে।
জাহাজ বন্দরে প্রবেশের জন্য সর্বনিম্ন পাইলটিং চার্জ নির্ধারণ করা হয়েছে ৮০০ ডলার। ১০ হাজার গ্রজ টনের বেশি ভ্যাসেলের জন্য প্রতি গ্রজটনে শূন্য দশমিক ০৮ ডলার চার্জ ধার্য হয়েছে। প্রবেশ বাতিলের ক্ষেত্রে প্রতিবার ২০০ ডলার, নাইট নেভিগেশন ভ্যাসেলের জন্য ঘোষিত চার্জের ওপর ২৫ শতাংশ এবং কর্ণফুলী নদীর বাইরের অংশে পাইলটিংয়ের জন্য ৫০ শতাংশ অতিরিক্ত মাশুল ধার্য করা হয়েছে।
টাগ ব্যবহারে নতুন চার্জ অনুযায়ী, প্রতি মুভমেন্টে ২০০-৫০০০ গ্রজটনের জাহাজের জন্য কর্ণফুলীর ভেতরে ৬১৫ ডলার এবং বাইরে ১২৩০ ডলার, ২০ হাজার গ্রজটনের ওপরে জাহাজের জন্য ভেতরে ৩৪১৫ ডলার এবং বাইরে ৬৮৩০ ডলার দিতে হবে। ডিজেবল বা ডেড ভ্যাসেলের ক্ষেত্রে মূল চার্জের বাইরে ১০০ শতাংশ এবং বাতিলের ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ বাড়তি মাশুল প্রযোজ্য হবে।
জাহাজের বার্থিং চার্জ হিসেবে প্রতি গ্রজটনে প্রতি ঘণ্টায় শূন্য দশমিক ০০৪ ডলার, প্রতিবার বার্থিং-আনবার্থিংয়ে ৯৪ দশমিক ৩২ ডলার এবং সমুদ্রগামী জাহাজের জন্য দৈনিক ২২৪ দশমিক ৮৫ ডলার মাশুল ধার্য হয়েছে। নোটিশ দেওয়ার পর বার্থ না ছাড়লে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত ১০০ শতাংশ, ৩৬ ঘণ্টার বেশি দেরি হলে ৯০০ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত চার্জ প্রযোজ্য হবে।
জাহাজে পানি সরবরাহের নতুন চার্জ অনুযায়ী, মেইন সাপ্লাই লাইন থেকে প্রতি ১০০০ লিটারে ২ দশমিক ৯২ ডলার, বন্দরের লরি ব্যবহার করলে ৫ কিলোমিটারের নিচে ৬ দশমিক ২৩ ডলার এবং ওয়াটার বোটের মাধ্যমে কর্ণফুলীর মধ্যে সরবরাহে ১২ দশমিক ৪৬ ডলার দিতে হবে। পতেঙ্গা লাইটহাউস থেকে ৭ নটিক্যাল মাইলের বাইরে সরবরাহের ক্ষেত্রে প্রতি ১০০০ লিটারে ২৪ দশমিক ৯৬ ডলার মাশুল প্রযোজ্য হবে।
এছাড়া ওয়েস্ট হ্যান্ডলিংয়ের জন্য কর্ণফুলীর ভেতরে প্রতিবার ২৪৫৬ দশমিক ৯৯ ডলার এবং বাইরে ৪০৬৩ দশমিক ১৫ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। বন্দরের ক্রেন ব্যবহারের চার্জও নতুনভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে—যেখানে ২১ ফুটের নিচে পণ্যভর্তি কনটেইনারের জন্য ২০ দশমিক ৮০ ডলার এবং ৪০ ফুটের ওপরে ৩৫ দশমিক ১০ ডলার মাশুল গুনতে হবে।
চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা যায়, রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নতুন মাশুল কাঠামোর গেজেট প্রকাশ করা হয়। ১৯৮৬ সালের পর এবারই প্রথম পূর্ণাঙ্গভাবে মাশুল কাঠামো পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে বন্দর সেবা উন্নত করতে এবং অবকাঠামো উন্নয়নে বিনিয়োগের খরচ মেটাতেই এই সমন্বয় আনা হয়েছে বলে জানান বন্দর সচিব ওমর ফারুক।
মন্তব্য করুন: