প্রকাশিত:
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৮:৩৫
কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার ব্যবস্থাপনার অনিয়ম নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করায় দৈনিক নয়া দিগন্তের সিনিয়র রিপোর্টার ও বাংলাদেশ এগ্রিকালচার রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএআরএফ) সাধারণ সম্পাদক কাওসার আজমকে জেল খাটানোর হুমকি দিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সার ব্যবস্থাপনা ও উপকরণ) আহমেদ ফয়সল ইমাম। সাংবাদিককে এ ধরনের হুমকি দেওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বিএআরএফ। সংগঠনের সভাপতি রফিকুল ইসলাম সবুজ ও সাংগঠনিক সম্পদক নাজমুল হুসাইন এক বিবৃতিতে অতিরিক্ত সচিব ফয়সল ইমামকে কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে প্রত্যাহার ও শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, আহমেদ ফয়সল ইমাম বিগত ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট সরকার গঠনের পর আইন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামের একান্ত সচিব (পিএস)। দীর্ঘ পাঁচ বছর তিনি পিএস হিসেবে ছিলেন। বর্তমানে তিনি অতিরিক্ত সচিব হিসেবে পদোন্নতি নিয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ে প্রতাপশালী কর্মকর্তা। গত আগস্ট মাসে দৈনিক নয়া দিগন্তে নন ইউরিয়া সার সঙ্কট ও মাঠের অব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের জেরে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদক কাওসার আজমকে জেল খাটানোর হুমকি দেন তিনি।
এ সময় নিজেকে একজন জাদরেল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দাবি করে আহমেদ ফয়সল ইমাম গর্ব করে বলেন, এক সাংবাদিককে আমি দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়ে এসেছি, যখন ম্যাজিস্ট্রেট ছিলাম। আমার এ অভিজ্ঞতা আছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে আমিই প্রথম ম্যাজিস্ট্রেট যে সম্পাদক কাম সাংবাদিককে দুই বছর জেল দিয়েছি। লক্ষ্মীপুরে ওই সাংবাদিককে কারাদণ্ড দেন বলে গর্বের সাথে বলেন তিনি। তিনি ২০০৪-০৬ সালে তিনি সিনিয়র সহকারী কমিশনার হিসেবে লক্ষ্মীপুর জেলা কার্যালয়ে নিযুক্ত ছিলেন।
প্রতিবাদলিপিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশের বিভিন্ন জায়গায় কৃষক সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার পাচ্ছে না। মাঠে সার নিয়ে অব্যবস্থাপনার বিষয়ে গত ১৯ আগস্ট ‘বেশি দামে কিনতে হচ্ছে সার, সঙ্কটের পেছনে কারা?’ শিরোনামে দৈনিক নয়া দিগন্তে খবর প্রকাশিত হয়। পত্রিকার সিনিয়র রিপোর্টার কাওসার আজম প্রতিবেদনটি করেন। এই প্রতিবেদনে নন ইউরিয়া সারের মজুদ, সরবরাহ ও মাঠপর্যায়ে কৃষককে অতিরিক্ত দামে সার কিনতে বাধ্য হওয়ার বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি ঠিক সময়ে সার আমদানি করতে না পারায় বাড়তি দাম দিয়ে নন ইউরিয়া সার আমদানি, বেসরকারিভাবে সাড়ে ৯ লাখ টন নন ইউরিয়া সার আমদানির বিষয়টিও উঠে আসে প্রতিবেদনে। উঠে আসে ডিলারশিপ সিন্ডিকেটের তথ্যও।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সারা দেশে নন ইউরিয়া সার সঙ্কটের সমাধান হয়নি এখনো। নন ইউরিয়া সার নিয়ে মাঠে অব্যবস্থাপনা এবং বেসরকারি পর্যায়ের আমদানির টেন্ডার বা দরপ্রস্তাব নিয়েও নানা অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি সম্প্রতি কৃষি মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সার উইংয়ের কাছে তথ্য চাওয়া হয়। বিশেষ করে কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান কী পরিমাণ করে নন ইউরিয়া সার আমদানির অনুমোদন পেয়েছে, তা জানতে গত ৭ সেপ্টেম্বর যুগ্ম সচিব খোরশেদ আলমের কাছে গেলে তিনি প্রথম দিন তথ্য না দিয়ে পরের দিন আসতে বলেন।
পরদিন (৮ সেপ্টেম্বর) তার কাছে গেলে তিনি ব্যস্ত আছেন জানিয়ে অতিরিক্ত সচিব আহমেদ ফয়সল ইমামের কাছ থেকে তথ্য নিতে বলেন। তার রুমে গিয়ে তথ্য চাওয়া হলে তিনি তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করতে বলেন। একপর্যায়ে তিনি নয়া দিগন্তে প্রকাশিত আগের নিউজের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে উচ্চকিত কণ্ঠে বলেন, ‘অন্যায় একটা নিউজ করেছেন, না জেনে না বুঝে নিউজ করেছেন। ব্যস্ততার কারণে জবাব দেইনি।
আপনার বিরুদ্ধে অ্যাকশনেও যাইনি। আপনার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা যায়।’ এর কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কারণ আপনি মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন, সম্মানহানি করেছেন। মানহানি মামলা তিনটা হয়।’ এ সময় প্রতিবেদক নিউজে ভুল তথ্য কী-জানতে চাইলে এই কর্মকর্তা বলেন, আমি খাচ্ছি তো (দুপুরে)। পরে আইসেন দেখায়ে দেবো যে, নিউজে মিথ্যা কী কী আছে। একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের আইন কী, আইনের কত ধারা-আমাদের চেয়ে আর ভালো কেউ জানে না। আমরা জানি, কোন আইন দিয়ে কারে কিভাবে ধরতে হবে। হাতে ছাই মাখিয়ে ধরব। কিন্তু ধরি নাই ইচ্ছা করেই। কতজন তো কত কথাই লিখছে।’
নেতৃবৃন্দ বলেন, এ দিকে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ‘বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ও গণমাধ্যমে কৃষি মন্ত্রণালয় বিষয়ে প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি’শিরোনামে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সারব্যবস্থাপনায় অনিয়ম হয়নি বরং সরকারের বিপুল পরিমাণ টাকা সাশ্রায় হয়েছে বলে জানানো হয়। অথচ প্রকৃত সত্য এর বিপরীত। এ অবস্থায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সার ব্যবস্থাপনা ও উপকরণ) আহমেদ ফয়সল ইমামকে মন্ত্রণালয় থেকে প্রত্যাহার ও শাস্তি দাবি করেন নেতৃবৃন্দ।
মন্তব্য করুন: