প্রকাশিত:
২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৮:৪৭
নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলা সরকারি হাসপাতাল বিভিন্ন ঔষধ কোম্পানীতে কর্মরত প্রতিনিধি (রিপ্রেজেন্টেটিভদের) দখলে। এ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত তাদের বিচরণ চোখে পড়ার মতো। চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগী ও রোগীর স্বজনেরা তাদের দৌরাত্ম্যের কারণে চরম বিরক্ত এবং অতিষ্ঠ।
ভুক্তভোগীরা জানায়, হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য রোগী নিয়ে আসলে গেইটের সামনে থেকেই কিছু লোক টানাহেচড়া শুরু করে এবং ডাক্তারের রুমে নিয়ে যাওয়ার জন্য চেষ্টা করে কিন্তু তাদেরকে আমরা চিনিনা, আবার চিকিৎসকের রুম থেকে বের হতে না হতেই কিছু লোক রোগী ও রোগীর স্বজনের কাছ থেকে প্রেসক্রিপশন নিয়ে টানাটানি করেন এটা আরেকটি বাড়তি হয়রানি।
জানা যায় ঔষধ কোম্পানীর লোকদের পাশাপাশি হাসপাতালের সামনে গড়ে উঠা প্রাঃ হাসপাতালের লোকজনও তাতে জড়িত আছে। তাদের স্বাবলীল কথাবার্তা এবং পোষাক আশাক দেখে আমরা মনে করি এরা হাসপাতালের লোক পরে শুনি তারা বিভিন্ন ঔষধ কোম্পানীর লোক। তারা কোন রকম অনুমতি না নিয়েই হাত থেকে কেড়ে নেন ব্যবস্থাপত্র। জানা যায়, হাসপাতালের অভ্যন্তরে রিপ্রেজেন্টেটিভদের প্রবেশ করা বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ডাক্তারদের রুমে বসে থাকা, রোগীর প্রেসক্রিপশনে হাত দেওয়া এবং ছবি তুলা বিষয়ে নিয়ম নীতি থাকলেও এ বিষয়টিকে কোনভাবেই কর্ণপাত করছে না এসব রিপ্রেজেন্টেটিভরা। হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা একাধিক রোগীরা জানায়, হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিতে আসলে ঔষধ কোম্পানির লোকজন এসে বিরক্ত করে প্রেসক্রিপশন কেড়ে নেয়, ছবি তুলে, এতে আমরা বিব্রতবোধ করি। সরকারি হাসপাতালে বর্হি-বিভাগে ডাক্তার দেখাতে প্রতিদিন ছুটে আসেন শত শত রোগী। কিন্তু রোগী দেখার সময় বিভিন্ন ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা ডাক্তারদের রুমে বসে থাকে তাদের কোম্পানির ঔষধ সম্পর্কে লেকচার দেন এবং তাদের ঔষধ লেখার জন্য ডাক্তারকে অনুরোধ করেন। আর এদিকে অসহায় রোগী ও তাদের স্বজনরা বাইরে সিরিয়াল নিয়ে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকেন।
হাসপাতালের বিশেষ সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালে বিভিন্ন ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা সকাল থেকেই তারা ভিড় করতে থাকে। এর পিছনে কিছু ডাক্তার ও কর্তৃপক্ষই দায়ী। ইমার্জেন্সি সহ প্রতিটি বিভাগের ডাক্তারদের রুমে এবং দরজার সামনে ও হাসপাতালের গেটের সামনে তাদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। এসব রিপ্রেজেন্টেটিভদের পদোন্নতি ও চাকুরি বাঁচানোর জন্য তারা দিনের পর দিন এসব কর্মকান্ড করেই চলেছেন। ঔষধ কোম্পানি গুলোর দেওয়া টার্গেট পূরণ করতেই রিপ্রেজেন্টেটিভরা ডাক্তার ও রোগীর কাছ থেকে ব্যবস্থাপত্র নিয়ে নিশ্চিত হতে হয় ডাক্তাররা তাদের কোম্পানির ঔষধ লিখেছেন কিনা। তাতে ডাক্তারদেরও দৈনন্দিন, সাপ্তাহিক কিংবা মাসিক হিসেবে কোম্পানির তরফ থেকে দামী গিফট ও উপঢৌকন দেওয়া হয়। যে ডাক্তার যত বেশি তাদের ঔষধ লেখেন, তত বেশি উপঢৌকনও দেওয়া হয়। এ বিষয়ে মনোহরদী উপজেলায় দায়িত্বরত মেডিকেল অফিসার (টিএস) জনাব মোঃ রাশেদুল হাসান মাহমুদ জানান, ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা ডাক্তারদের রুমে যাওয়া-আসা করে এবং রোগীদের হাতে থাকা প্রেসক্রিপসন ভিজিট করে তা ঠিক। কিন্তু এবিষয়টি রোধ করতে ইতিমধ্যে কয়েকবার পদক্ষেপ ও নেওয়া হয়। কোন ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের হাসপাতালের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে ব্যবস্থাপত্রের ছবি তোলার সুযোগ নেই। তারা নির্ধারিত সময় ব্যতীত ডাক্তার ভিজিট করতে পারবেন না বলে আমরা বারবার এ ব্যাপারে তাদেরকে সতর্ক করেছি। এরপরও যদি তারা না শুনে তবে অবশ্যই তাদের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য করুন: