প্রকাশিত:
২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৪:২৮
নোয়াখালীতে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ভিডব্লিউবি (ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট) চক্রের চালের কার্ড বিতরণে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া ইউপি সদস্যদের বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে স্বচ্ছল পরিবারের কাছে কার্ড বিতরণ এবং আবেদনের নামে সেবাগ্রহীতাদের থেকে নানা অযুহাতে টাকা হাতানোর অভিযোগ রয়েছে ইউনিয়ন পরিষদের ডিজিটাল সেন্টারের পরিচালকের বিরুদ্ধে। সোনাইমুড়ী উপজেলার জয়াগ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মহিনউদ্দিন, ডিজিটাল সেন্টারের পরিচালক তুষার সহ দুই মহিলা মেম্বারের বিরুদ্ধে এসকল অভিযোগ তোলেন ভিডব্লিউবি চক্রের উপকারভোগীরা।
বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীর জয়াগ ইউনিয়ন পরিষদের সামনে চাল নিতে আসা নারীরা এসকল অভিযোগ করেন। উপকার ভোগীদের সাথে কথা বলতেই বেরিয়ে আসে একেরপর এক অনিয়ম ও দূর্নীতির তথ্য।
এসময় কথা হয় শিউলি বেগমের সাথে যিনি এসেছেন চাল নিতে। তবে সাথে এনেছেন ছুমাইয়া আক্তার নামের একটি কার্ড। জানতে চাইলে তিনি নিজেকে সুমাইয়া আক্তারের শ্বাশুড়ি পরিচয় দেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এই শিউলি বেগম জয়াগ ইউনিয়নের ৪,৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের নারী ইউপি সদস্য। তার ছেলে চাকরিজীবী হলেও ভিডব্লিউবি চক্রে উপকার ভোগীদের তালিকায় অন্তভূক্ত করিয়েছেন নিজের পুত্রবধূর নাম।
চাল নিতে আসা জুনুদপুরের তাজনেহার বেগম, উলুপাড়া গ্রামের সালমা আক্তার সহ অধিকাংশ উপকার ভোগীরা জানান, ভিডব্লিউবি কার্ড হাতে পেতে ডিজিটাল সেন্টারের পরিচালক তুশারকে মাথাপিছু ৩০০ টাকা দিতে হয়েছে। যেই টাকার কোন রশিদ তাদের দেওয়া হয়নি। এছাড়া ভালো চালের সাথে খারাপ চাল মিশ্রণ করে বিতরনের অভিযোগও তোলেন তারা।
ইউনিয়নের বাহারকোট এলাকা থেকে আসা সোনিয়া বেগম অভিযোগ করেন তার বোনের জন্য এই কার্ড পেতে ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যানকে পাঁচ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে। তার স্বামী নিজ হাতে চেয়ারম্যানের হাতে এই টাকা তুলে দেন।
সাংবাদিকদের অভিযোগ দেওয়ার অপরাধে চাল বিতরণ বন্ধ করে অভিযোগকারী নারীকে চেয়ারম্যানের কক্ষে তলব করা হয়। এসময় প্রতিবেদকের সামনেই রুমে উপস্থিত ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান মহিনউদ্দিন, বিভিন্ন ওয়ার্ডের মেম্বার ও একটি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা ওই নারীকে বিভিন্ন ভাবে হেনস্তা করতে থাকেন। প্রতিবেদকের কাছে ওই মহিলার সকল অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন চেয়ারম্যান। পরে সেই মহিলার কার্ড আটকে রেখে চাল বিতরণ বন্ধ করে দেন চেয়ারম্যান।
ঘটনার দিন বিকালে ওই নারী চাল পেয়েছেন কি না তার খোঁজে নিতে বাহারকোট এলাকার পোলের গোড়ার সাবানির বাড়ি নামক স্থানে অভিযোগকারী সোনিয়া বেগমের বাড়িতে গেলে সেখানে ইউপি চেয়ারম্যানকে হুমকি-ধমকি দিতে থাকা অবস্থায় দেখা যায়। পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সামনে নানা ভাবে হেনস্তা ও অপদস্ত করেন ইউপি চেয়ারম্যান মহিনউদ্দিন।
সরেজমিনে জয়াগ ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ঘুরে অর্থের বিনিময়ে স্বচ্ছল পরিবারের কাছে ভিডব্লিউবি কার্ড বিতরণে সত্যতা মিলেছে। ৯নং ওয়ার্ডের কেঘনারখিল এলাকার আঃ মজিদ ডাক্তার বাড়ির রেহানা বেগম গত নয় বছর পূর্বে স্বামীকে হারিয়েছেন। বর্তমানে দুই সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তিনি অভিযোগ করেন গত নয় বছর তিনি জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন একটি বিধবা ভাতার কার্ডের জন্য। পরে টিসিবির কার্ড ও ভিডব্লিউবি কার্ডের জন্যেও অনুরোধ করেছেন তাদের তবে টাকা না দিতে পারায় কোন সুবিধাই জোটেনি তার কপালে।
এদিকে বিধবা রেহেনা বেগম ভিডব্লিউবি কার্ড না পেলেও টাকার বিনিময়ে সেই সুবিধা ঠিকই পেয়েছেন একই এলাকার একই নামের প্রবাসীর স্ত্রী রেহানা আক্তার। কথা বলে জানা যায় রেহানা আক্তারের স্বামী মনির হোসেন ১৬ বছর থেকে দুবাই প্রবাসী। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিকে তিন হাজার টাকা দিয়ে তিনি এই কার্ড নিয়েছেন। একই ভাবে চাল বিতরণ স্থলে নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক মহিলা টাকার বিনিময়ে ভিডাব্লিউবি কার্ড পেয়েছেন বলে জানান।
এবিষয়ে কথা হলে সোনাইমুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাসরিন আকতার জানান, টাকার বিনিময়ে ভিডাব্লিউবি চক্রের কার্ড বিতরণ কিংবা কোন অনিয়মের বিষয় তার জানা নেই। তথ্য-প্রমান পেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে কোনরকম ছাড় দেওয়া হবে না।
মন্তব্য করুন: