প্রকাশিত:
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৪:১৫
জেলা বিএনপির মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটি বাতিলের দাবিতে গাইবান্ধায় গণমিছিল করছে ত্যাগি ও যোগ্য নেতা কর্মীরা। সেইসাথে তারা ফ্যাসিবাদি আওয়ামী লীগের পূর্নবাসন, বিভিন্ন উপজেলা, পৌরসভার, ইউনিয়ন এমনকি ওয়ার্ড পর্যন্ত ত্যাগি নেতাদের বাদ দিয়ে পকেট কমিটি করার বিষয়টিও অভিযোগ করেন।
গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এ্যাড.হামিদুল হক ছানার সভাপতিত্বে গণমিছিলটি গাইবান্ধা পৌর এলাকার মুন্সিপাড়া থেকে বের হয়ে স্টেশন রোড দিয়ে সার্কুলার রোড হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে ডিবি রোড হয়ে পুরাতন জেলখানা মোড় (গোল চত্বর) গিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপন করে বক্তব্য দেন এ্যাড.হামিদুল হক ছানা, পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি আবুবকর সিদ্দিক, শাহজাহান আলী, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য এরশাদ মল্লিক অনু, বিএনপি রুহুল আমিন, ফারুক মিয়া, জাহিদ মিয়া প্রমুখ।
এসময় বক্তারা বলেন, ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সরকার অবৈধ পন্থায় সরকার গঠন করলে বিভিন্ন মামলা -হামলা দিয়ে দলীয় নেতা কর্মীদের জেলে পাঠলে হঠাৎ করে ২০১৭ মার্চে হঠাৎ ডা. মইনুল হাসান সাদিক জেলা বিএনপির সভাপতি হন।। আওয়ামী ফ্যাসিবাদীদের সাথে হাত মিলিয়ে ত্যাগী,যোগ্য নেতা -কর্মীদেরকে বাদদিয়ে শুরু করেন কমিটি বাণিজ্য।
ওর্য়াড থেকে শুরু করে জেলা কমিটি পর্যন্ত কমিটি বাণিজ্য চলতে থাকে। আওয়ামী দোসর নাহিদুজ্জান নিশাদকে বগুড়া থেকে ডেকে এনে মোটা অংকের টাকা নিয়ে সিদ্ধান্ত ছাড়াই জেলা কমিটির সহ সভাপতির পদ দিয়ে বসেন।পরবর্তীতে জাতীয় দৈনিক আমার দেশ পত্রিকায় অনুসন্ধানীমুলক প্রতিবেন প্রকাশিত হলে বাধ্য হয়ে তাকে দলথেকে
বহিষ্কার করা হয়।
তিনি আরো বলেন,গত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ গ্রহন করার জন্য আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন সংগ্রহ করেন আওয়ামী নেত্রী আরজিনা পারভীন চাঁদনি।সেই আওয়ামী নেত্রীকে ডা.মইনুল হাসান সাদিক পলাশবাড়ী উপজেলার মহিলা দলের সভাপতি ও আওয়ামী কর্মী হিসেবে পরিচিত নাছিমাকে সাংগঠনিক সম্পাদক পদ দিলে পরবর্তীতে পদবঞ্চিতদের তোপের মুখে পড়ে কৌশল করে মহিলা দলের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিনের মাধ্যমে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এ ভাবে একের পর এক নতুন মুখ নিয়েএসে বাণিজ্য করে তাদেরকে আবার বাতিলো করেন।
সরকার বিরোধী এক দফার আন্দোলন কে আরো গতিশীল করার জন্য ২০২৩ সালে নতুন নেতৃত্বে আসলেও ডা.মইনুল হাসান সাদিকে তেমন কোন রাজনীতির মাঠে দেখা যায়নি। যার কারণে মুখথুবড়ে পড়ে জেলা বিএনপি।
পবঞ্চিতের মধ্যে একাধিক নেতা বলেন, গত ১৭ বছর যারা নির্যাতন, নিপীড়নের স্বীকার এবং একাধিক মামলার আসামি হয়ে কারা ভোগসহ হামলার শিকার হয়েছে এমন ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে দিয়েছেন। নিষ্ক্রিয়, অচেনা ও অনুপ্রবেশকারীদের দিয়ে কমিটি দিয়েছে।
তিনি সভাপতির দায়িত্ব পাওয়ার পর পরই গাইবান্ধা জেলা, উপজেলা এমনকি ইউনিয়ন বিএনপিকে খন্ড খন্ড করেছে এখন।
তার অযোগ্য ও দূর্বল নেতৃত্বের কারণে গোবিন্দগঞ্জ, পলাশবাড়ী, সাদুল্লাপুর, সুন্দরগঞ্জ, গাইবান্ধা সদর ও ফুলছড়ি-সাঘাটা চলছে দলীয় গ্রুপিং।
বক্তরা আরো বলেন , গাইবান্ধা জেলা বিএনপি উদ্ভূত পরিস্থিতির সৃষ্টির এ বিষয়টি নিয়ে বিএনপির সর্বোচ্চ পর্যায়ে তুলে ধরা হবে। আমাদের একটা দাবি অবিলম্বে মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটি বিলুপ্তি করাসহ দলের পদবঞ্চিত,ত্যাগীদের মূল্যায়ন করে নতুন কমিটি ঘোষণা করতে হবে। তা-না হলে গাইবান্ধার মাটিতে কোনো অবৈধ কমিটির স্থান হবে না।
মন্তব্য করুন: