প্রকাশিত:
২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৬:১২
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস ২০২৫ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক শঙ্কর কুমার বিশ্বাস বলেছেন, যেসকল সরকারি দপ্তরের ওয়েবপোর্টাল হালনাগাদ নেই সে সকল দপ্তরকে অবিলম্বে তাদের দপ্তরের ওয়েব পোর্টাল হালনাগাদ করতে হবে। তিনি জেলার দপ্তরসমূহকে জনগণের চাহিত তথ্য সঠিকভাবে প্রদান করার অনুরোধ জানান। “পরিবেশের তথ্য ডিজিটাল যুগে হোক সুনিশ্চিত” এই প্রতিপাদ্য বিষয়কে সামনে নিয়ে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ২০২৫ সালের সরকারি দপ্তরসমূহের ওয়েবপোর্টাল পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন টিআইবি’র চট্টগ্রাম বিভাগের ক্লাস্টার কোঅর্ডিনেটর মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মাহমুদা আক্তার এর সভাপতিত্বে ও এসিজি’র সদস্য নুসরাত জাহান বুশরা’র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন সনাক সদস্য মোহাম্মদ আরজু। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এম এম রকীব উর রাজা এবং সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. মাহমুদুল হাছান। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা তথ্য অফিসার দীপক চন্দ্র দাস, তরী বাংলাদেশের আহ্বায়ক শামীম আহমেদ প্রমুখ। অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের প্রধান, সাংবাদিক, সনাক-ইয়েস ও এসিজি সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপ-পরিচালক (স্থানীয় সরকার) ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার প্রশাসক শঙ্কর কুমার বিশ্বাস আরো বলেন, সরকারি দপ্তরগুলো তথ্য দিতে অনেকটা আগ্রহী হলেও এনজিওগুলো বিশেষ করে শরণার্থী শিবিরে যে সকল আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান কাজ করে তারা মোটেও তথ্য দিতে চায়না, এজন্য সরকারি কর্মকর্তাদেরকে কাজ করতে গিয়ে অনেক সমস্যার সম্মুখিন হতে হয়। তিনি সরকারি দপ্তরের পাশাপাশি সকল বেসরকারি দপ্তরগুলোকেও তথ্য প্রদানের আহবান জানান। অনুষ্ঠানে তরীর আহ্বায়ক পৌরসভা, উপজেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ওয়েব পোর্টালে নদী, খাল-বিল ও পুকুর-জলাশয়, ফসলী জমি, বায়ূ, মাটি, পানি ও শব্দ দূষণের মাত্রা সম্পর্কিত হালনাগাদ তথ্য শেয়ার করার অনুরোধ করেন।
ওয়েব পোর্টাল পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে দেখা যায় ২০২৪ সালের চেয়ে ২০২৫ সালে তথ্য হালনাগাদের হার কমেছে। তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৪ সালে সাতটি বিষয়ে ৪৭টি প্রতিষ্ঠানের তথ্য শতভাগ হালনাগাদ থাকলেও ২০২৪ সালে মাত্র ১৭টি প্রতিষ্ঠানের শতভাগ তথ্য হালনাগাদ রয়েছে, অর্থাৎ শতভাগ হালনাগাদের হার মাত্র ২২.৩৬%। পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, সবচেয়ে কম হালনাগাদ রয়েছে খবর ও নোটিশ অংশে। পর্যবেক্ষণে দেখা যায় ২০২৫ সালে নোটিশ বোর্ড হালনাগাদ রয়েছে ৭৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪৫টি প্রতিষ্ঠানের, যার শতকরা হার ৫৯.২১%। অপরদিকে খবর অংশে ২০২৪ সালে যেখানে ৫০টি (৬৫.৭৮%) প্রতিষ্ঠানের তথ্য হালনাগাদ ছিলো, সেখানে ২০২৫ সালে হালনাগাদ রয়েছে মাত্র ২০টি প্রতিষ্ঠানের (২৬.৩১%)। একইভাবে অফিস প্রধানের তথ্য ২০২৪ সালে শতভাগ (৭৬টি) প্রতিষ্ঠানের হালনাগাদ থাকলেও ২০২৫ সালে হালনাগাদ রয়েছে ৬৫টি। এক্ষেত্রে ১০টি প্রতিষ্ঠানের তথ্য ২০২৪ এর চেয়ে নিম্নগামী।
আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মাহমুদা আক্তার বলেন, গত বছরের চাইতে এবছর ওয়েব পোটালের তথ্য হালনাগাদের হার হাতাশাজনক, যা মোটেও কাম্য নয়। তিনি বলেন, ওয়েব পোর্টাল হালনাগাদ না থাকলে জনগণ সঠিক তথ্য না পেয়ে অধিকার বঞ্চিত হবে। তিনি অবিলম্বে ওয়েব পোর্টালগুলো হালনাগাদ করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
মন্তব্য করুন: