শনিবার, ৭ই মার্চ ২০২৬, ২৩শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল nagorikdesk@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে ইরানই সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতে পারে: বিশ্লেষক
  • ব্যাংক একীভূতকরণের উদ্যোগ চলমান রাখার বার্তা গভর্নরের
  • ইসরায়েল-মার্কিন যৌথ হামলায় ইরানে নিহত বেড়ে ৫৫৫
  • আসিফ মাহমুদের ব্যাংক হিসাব তলব
  • অপরাধ দমনে আরও বেশি সক্রিয় পুলিশ
  • ঢাকার আইসিইউয়ে ওষুধ-প্রতিরোধী ছত্রাক ‘সুপারবাগ’ ছড়িয়ে পড়েছে
  • ভূমি প্রতিমন্ত্রী অফিসে গিয়ে দেখেন কর্মকর্তারা কেউ আসেননি
  • রাজধানীতে নারীদের জন্য আলাদা বাস চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
  • আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে খামেনিকে হত্যা, বিবৃতিতে বাংলাদেশ
  • মঙ্গলবার থেকে মিলবে ঈদযাত্রায় ট্রেনের টিকিট

ঘোড়াশাল রেলওয়ে ফ্ল্যাগ স্টেশনটি একজন জমিদারের জন্য স্থাপন করা হয়েছিলো বৃটিশ আমলে

বোরহান মেহেদী, পলাশ (নরসিংদী)

প্রকাশিত:
৪ অক্টোবর ২০২৫, ১৪:৩০

ঐতিহাসিক প্রাচীন ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলরুটে ঘোড়াশাল ফ্ল্যাগ স্টেশনটি নরসিংদী জেলার পলাশ উপজেলায় অবস্থিত। এ স্টেশনটিই বাংলাদেশের প্রথম দ্বিতল বা দোতলা রেলওয়ে স্টেশন।

জানা যায়, ১৮৯২ সালে ইংল্যান্ডে গঠিত আসাম বেঙ্গল রেলওয়ে কোম্পানি এদেশে রেলপথ নির্মাণের দায়িত্ব নেয়। পরবর্তীতে অন্যান্য স্টেশনের মতো ১৯১০ সালে ঘোড়াশাল রেলওয়ে স্টেশন স্থাপন করা হলেও ফ্ল্যাগ স্টেশনটি ১৯১৪ সালে স্থাপন করা হয়।

ঘোড়াশালের তৎকালীন জমিদার হাজি মোহাম্মদ আবু সাঈদ (সাজদা মিয়া) জমিদারির পাশাপাশি ব্রিটিশ সরকারের মনোনীত একজন ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন। সেই সুবাদে ঘোড়াশাল থেকে রেলপথে তাকে ঢাকায় গিয়ে অফিস করতে হতো। পার্শ^বর্তী কালীগঞ্জ, কাপাসিয়া এবং চরসিন্দুরের লোকজনকেও নদী পথে এসে ঘোড়াশালের এ স্টেশনটি রেলপথে যাতায়াতের জন্য ব্যবহার করতে হতো।

কিন্তু শীতলক্ষ্যা নদীর পার থেকে স্টেশনটির দূরত্ব ছিল প্রায় দুই কিলোমিটার। নদীপথে এসে পায়ে হেঁটে যাত্রীদের স্টেশনে আসা যাওয়া খুবই কষ্টসাধ্য ছিল। সেইদিক বিবেচনা করে শীতলক্ষ্যা নদীর পারে আরেকটি রেলওয়ে স্টেশন স্থাপনের জন্য ব্রিটিশ সরকারের কাছে লিখিত আবেদন জানান জমিদার সাজদা মিয়া। তার এ আবেদনের প্রেক্ষিতে ১৯১৪ সালে আসাম বেঙ্গল রেলওয়ে কোম্পানি নির্মাণ করে ঘোড়াশাল ফ্ল্যাগ স্টেশন।

এ ব্যাপারে ঘোড়াশাল দক্ষিণ চরপাড়ার কোরবান আলী জানান, তখন স্টেশনের এ ঘরটি চারদিকে মুলিবাঁশ ও উপরে ছিল টিনের চালা। নিচে টিকেট বিক্রি করার জন্য ছিল টিকেট ঘর, আর উপরে ছিল বিশ্রামাগার। রেলগাড়িতে থাকতো জমিদার সাহেবের জন্য নির্ধারিত একটি কামরা। ফ্ল্যাগ স্টেশনের পুরাতন স্থাপত্যটি এরশাদ সরকারের আমলে ভেঙে ফেলার চেষ্টা করা হলেও জমিদার আহমেদুল কবির মনু মিয়ার বাধার কারণে তা পারেনি।

ঘোড়াশাল টেকপাড়া গ্রামের আব্দুল হাই খান জানান, সাজদা মিয়া ছিলেন ঘোড়াশাল অঞ্চলের সবচেয়ে বড় জমিদার। স্টেশনটি তার জন্যই হয়েছে। যেদিন ঢাকা যেতেন, সংবাদটি আগেই রেলওয়ে কোম্পানিকে জানানো হতো। ট্রেন থামিয়ে রেলওয়ে কোম্পানির লোক বাড়িতে এসে বলতেন জমিদার সাহেবের জন্য ট্রেন থামিয়ে রাখা হয়েছে।

তখন তিনি পালকিতে চড়ে স্টেশনে যেতেন। পালকির আগে পিছে থাকতেন ৩ জন করে ৬ জন ঋষি, আঞ্চলিক ভাষায় যাদেরকে বলা হয় “মাওরা”। সাহেবকে স্টেশনে আনা-নেওয়ার জন্য তাদেরকে প্রস্তত রাখা হতো। মূলত জমিদার সাজদা মিয়ার জন্যই ঘোড়াশাল ফ্ল্যাগ স্টেশনটি করা হয়েছে।

ঘোড়াশাল গ্রামের হযরত আলীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তৎকালীন ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে জমিদার সাজদা মিয়ার ছিল খুবই সুসম্পর্ক। আর এ জন্যই মাত্র ১ কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে আরেকটি ফ্ল্যাগ স্টেশনটি স্থাপন করা সম্ভব হয়েছে। যেদিন অফিসের কাজে ঢাকা যেতো, চট্টগ্রাম থেকেই জমিদার সাহেবের জন্য একটি কামরা বরাদ্দ থাকতো। জমিদার ছাড়া আর কেউ এই কামরাটিতে উঠতো না।

ঘোড়াশাল ফ্ল্যাগ রেলওয়ে স্টেশনটির ঐতিহ্যকে ধরে রাখার দাবি স্থানীয়দের। পাশাপাশি ১ শত ৮ বছরের পুরোনো এ ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলো রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে এটিকে পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিয়ে পর্যটন এলাকায় রূপান্তরিত করতে সরকারের কাছে সর্ব মহলের দাবি। প্রতিদিন বিশেষ করে যেকোনো ছুটির দিনে নরসিংদী জেলা ছাড়াও পার্শবর্তী গাজীপুর, ঢাকা, মানিকগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, কিশোরগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পর্যটকরা আসেন অবসর সময় কাটাতে।

এখানে দুটি রেলওয়ে সেতুও রয়েছে এবং আসা যাওয়ার রাস্তাগুলোর সৌন্দর্য বর্ধণ করা হয়েছে। রয়েছে প্রাকৃতিক মনোরম দৃশ্য, যা দেখলে যে কারোর মন জুড়াবে।

 


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর