প্রকাশিত:
৫ অক্টোবর ২০২৫, ১৭:৫২
ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তে স্বর্ণ পাচার বেড়েই চলেছে। সীমান্ত দিয়ে প্রতিনিয়ত পাচার হচ্ছে কোটি কোটি টাকার স্বর্ণ। মহেশপুর সীমান্ত এলাকা যেন বর্তমানে স্বর্ণের খনিতে পরিণত হয়েছে। এপারে বিজিবি, ওপারে বিএসএফের হাতে কোটি কোটি টাকার স্বর্ণ আটক হচ্ছে। এর পরও লাগাম টানা যাচ্ছে না স্বর্ণ পাচারকারীদের। পাচারকারীরা একের পর এক কৌশল বদল করছে। তবে বিজিবি বলছে, সীমান্তে স্বর্ণ চোরাচালান রোধে তারা জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করছে।
বিজিবির তথ্যমতে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মহেশপুর বিজিবি ৪৯ কেজি ৫৮২ গ্রাম স্বর্ণ জব্দ করে। যার আনুমানিক বাজারমূল্য শতকোটি টাকার ওপরে। এ সময় ৪১ জন পাচারকারীকে আটক করা হয়।
জানা গেছে, গত ২৭ সেপ্টেম্বর মহেশপুরের কাকিলাদাঁড়ি বাজার থেকে দুই কেজি ৩৩১ গ্রাম স্বর্ণসহ দুই যুবককে আটক করে বিজিবি, যার বাজারমূল্য সাড়ে তিন কোটি টাকার বেশি। ৬ সেপ্টেম্বর মহেশপুরের সীমান্ততী গ্রাম পলিয়ানপুরে ৩৪৯ গ্রাম স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়, যাঁর বাজারমূল্য ৫০ লাখ ৫২ হাজার টাকা। ১৩ আগস্ট একই এলাকা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় আড়াই কোটি টাকা মূল্যের এক কেজি ৮০০ গ্রাম স্বর্ণ জব্দ করে বিজিবি। ২৬ জুলাই চার কেজি ২০৩ গ্রাম স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়, যাঁর বাজারমূল্য পাঁচ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। ৩০ মে পলিয়ানপুর গ্রাম থেকে এক কেজি ঝিনাইদহ লাগাম টানা যাচ্ছে না স্বর্ণ পাচারকারীদের প্রতিনিয়ত পাচার হচ্ছে কোটি কোটি টাকার স্বর্ণ ১৭৭ গ্রাম স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়, যাঁর বাজার মূল্য এক কোটি ৬৮ লাখ ৭৬ হাজার ৬০০ টাকা। ৫ মে জীবননগর গ্রাম থেকে দুই কেজি ৪৪৫ গ্রাম স্বর্ণের বারসহ রাজ রকি নামের এক পাচারকারীকে আটক করা হয়। যার বাজারমূল্য তিন কোটি ১৬ লাখ ১৮ হাজার ৩২৬ টাকা। এর আগে গত ১৭ জানুয়ারি মাটিলা থেকে চার কোটি পাঁচ লাখ ৯৯ হাজার ৪৭১ টাকার স্বর্ণ আটক করা হয়।
সূত্র জানায়, বেশ কিছুদিন ধরে মহেশপুর সীমান্ত দিয়ে স্বর্ণ পাচার বন্ধ ছিল। তবে যথাযথ নজরদারির অভাবে সম্প্রতি এই সীমান্ত দিয়ে আবারও স্বর্ণ পাচার শুরু হয়েছে। সীমান্ত পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে স্বর্ণ পাচারকারীরা বারপ্রতি পাঁচ থেকে ১২ হাজার টাকা পেয়ে থাকে। প্রশাসনের অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে পাচারকারীরা তাদের সুবিধামতো সময়ে সীমান্তে স্বর্ণের বার পাচার করে থাকে। বিজিবির সোর্সরা তাদের স্বর্ণ পাচার করতে সহায়তা করে থাকে বলেও অভিযোগ রয়েছে। মহেশপুরের মানবাধিকারকর্মী আব্দুর রহমান বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সীমান্ত এলাকায় আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি।
লে. কর্নেল রফিকুল আলম অধিনায়ক, ৫৮ বিজিবি বলেন, 'দীর্ঘদিন ধরেই মহেশপুর সীমান্ত স্বর্ণ পাচারের নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তবে কিছুদিন পাচার বন্ধ থাকলেও হঠাৎই আবার স্বর্ণ পাচার বেড়ে গেছে। মাঝেমধ্যে স্বর্ণ পাচারকারীরা আটক হলেও মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। ফলে সীমান্ত দিয়ে স্বর্ণ পাচার বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না।'
এ ব্যাপারে মহেশপুর ৫৮ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল রফিকুল আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, 'সীমান্ত দিয়ে ভারতে স্বর্ণ চোরাচালান রোধে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করছি। আমরা প্রতিনিয়ত অভিযান চালিয়ে স্বর্ণ উদ্ধার ও পাচারকারীদের আটক করছি।
এ ছাড়া গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সীমান্ত এলাকায় আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি।'
তিনি আরো বলেন, 'স্বর্ণ চোরাচালান রোধে সীমান্তে বিজিবি কঠোর নজরদারি বাড়িয়েছে। আশা করছি শিগগিরই আমাদের সীমান্তে স্বর্ণ পাচার রোধ করা যাবে।
মন্তব্য করুন: