প্রকাশিত:
৬ অক্টোবর ২০২৫, ১৪:১৫
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের নরহা গ্রামে বেড়া দিয়ে প্রতিবেশীর চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারগুলো পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পায়নি।
বিকল্প পথ না থাকায় পানিতে সাঁতরে বাড়ি থেকে বের হতে হচ্ছে পরিবারের সদস্যদের। এতে তিন সপ্তাহ ধরে ওই পরিবারের দুই শিক্ষার্থীর বিদ্যালয়ে যাওয়া বন্ধ রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নরহা গ্রামের কাজী তৈয়ব আহম্মদের বাড়িতে প্রবেশের একমাত্র পথটি বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে পূর্ব পাশের প্রতিবেশীরা ওই রাস্তা বন্ধ করে দেয়। বাড়ির দুই পাশে পুকুর ও জলাবদ্ধতা থাকায় পথটি ছিল একমাত্র চলাচলের উপায়। ফলে অবরুদ্ধ অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা।
রাস্তা বন্ধ থাকায় স্কুল ও মাদ্রাসায় যেতে না পেরে দুর্ভোগে পড়েছে ওই পরিবারের দুই শিক্ষার্থী। জরুরি প্রয়োজনে পানিতে ভিজে বা সাঁতরে বাইরে যেতে হচ্ছে। অসুস্থ কেউ হলে হাসপাতালে নেওয়ারও উপায় নেই।
ভুক্তভোগী কাজী তৈয়ব আহম্মেদ বলেন, “আমরা বহু বছর ধরে এই রাস্তাটি ব্যবহার করছি। কিন্তু স্থানীয় আধিপত্যের জেরে চাচাতো ভাইয়েরা বেড়া দিয়ে পথটি বন্ধ করে দিয়েছে। এখন আমরা কার্যত বন্দি অবস্থায় আছি। রাস্তা না থাকায় মেয়ের স্কুলে যাওয়া বন্ধ, ছেলেও মাদ্রাসায় যেতে পারছে না।”
অবরুদ্ধ পরিবারের সদস্য ও হরিণবেড় শাহজাহান উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী কাজী তামান্না আক্তার বলেন, “প্রথম কয়েকদিন পানিতে ভিজে স্কুলে গিয়েছিলাম। কিন্তু পরে খুব কষ্ট হওয়ায় যাওয়া বন্ধ করে দিতে হয়েছে।”
অভিযুক্ত দানা মিয়া বলেন, “ওই পরিবারের লোকজন আমাদের ওপর অনেক অত্যাচার করেছে এবং মিথ্যা অপবাদ দেয়। তাই আমরা রাস্তা বন্ধ করেছি।”
নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাকছুদ আহাম্মদ বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীনা নাছরিন বলেন, “শিক্ষার্থীরা যাতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে পারে সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন: