প্রকাশিত:
৯ অক্টোবর ২০২৫, ১৫:৫৭
যশোর সদর উপজেলার ১৩নং কচুয়া ইউনিয়নবাসীর দুর্ভোগ যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না, কচুয়া ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রামের মানুষের যোগাযোগ ও যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম হল ভৈরব নদীর উপর অবস্থিত ছাতিয়ানতলা বাজার সংলগ্ন এই সেতুটি তিন বছর আগে সেতুটির নির্মাণ কাজ শুরু হলেও স্থানীয় নদ-নদী রক্ষা আন্দোলনের সংগঠকদের দাবি সেতুটি কম উচ্চতা হওয়ার কারণে নৌ চলাচলে বিঘ্ন ঘটবে নদীতে যখন জোয়ারের পানি বেশি থাকবে তখন এই সেতুর নিচ দিয়ে নৌকা বা ট্রলার চলাচল ব্যাহত হবে, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কতৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) সার্ভে করে সেতুটিকে ত্রুটিপূর্ণ বলে অভিমত দিয়েছে, তবে নির্মাণকারী কর্তৃপক্ষ মনে করেন ভৈরব নদীর বর্তমান প্রবাহমানতা অনুযায়ী যথেষ্ট উঁচু করে সেতুটি তৈরি করা হচ্ছিল, নদী রক্ষা আন্দোলনের এক নেতা নৌ চলাচলের উপযোগী করে নির্মাণের আর্জি জানিয়ে উচ্চ আদালতে রিট করেন।

এলজিইডি কর্তৃপক্ষ আদালতে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং ছয় মাসের মধ্যে যথাযথ শর্ত মেনে কাজ শুরুর প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু প্রায় দুই বছরেও এর কোন অগ্রগতি না হওয়ায় জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে অস্থায়ী সাঁকো তৈরি করে মানুষ পারাপার হচ্ছেন ঝুঁকিপূর্ণ এই সাঁকো দিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা, সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন কচুয়া ইউনিয়নের ৬ ও ৭ নং ওয়ার্ডের মানুষ, কারণ তাদের নিত্য প্রয়োজনীয় দৈনন্দিন চাহিদা মেটানো সহ শিক্ষা চিকিৎসা সবকিছুর প্রয়োজনে এই সেতুটি অপরিহার্য ৬ নং ওয়ার্ড ঘোপ গ্রামের বাসিন্দা মোঃ সুমন হোসেন পেশায় তিনি একজন কোচিং মাস্টার খুবই আক্ষেপের সুরে জানান আমাদের এই সেতুটি প্রায় তিন বছর যাবৎ অকেজো হয়ে আছে স্কুল কলেজ মাদ্রাসা সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো নদীর ওপারে হওয়ায় আমাদের ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া চরম হুমকির মুখে পড়েছে।
একই গ্রামের মুদি ব্যবসায়ী মোঃ আসাদ বিশ্বাস জানান সেতুর কাজ বন্ধ থাকায় এই অঞ্চলের মানুষের অর্থনৈতিক প্রভাব পড়েছে কৃষকদের পণ্য বাজারজাত করতে ভোগান্তি বেড়েছে এছাড়াও খরচ বেড়েছে কয়েক গুণ, বয়লার মুরগি ব্যবসায়ী মোঃ শাহিন মোল্লা জানান আমাদের ব্যবসা বাণিজ্য প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম, আগে সেতুর উপর দিয়ে যানবাহন চলাচল করতো বাইরের ব্যবসায়ী সহজেই আমাদের খামারে এসে মুরগি কিনতে পারতেন, কিন্তু এখন আমাদের স্থানীয় লোকাল বাজারে মুরগি বিক্রি করতে হয় যার জন্য ভালো দাম পাওয়া সম্ভব হয় না। এ বিষয়ে এলজিইডি যশোরের বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলী আহমেদ মাহবুবুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন শুধু ঘোপ ছাতিয়ানতলা সেতু নয় তিনটি প্রকল্পে মোট আটটি সেতুর নির্মাণ কাজ বন্ধ রয়েছে সেগুলো আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী পুনরায় নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
মন্তব্য করুন: