প্রকাশিত:
৯ অক্টোবর ২০২৫, ১৬:২৭
হিংসা আর হানাহানির রাজনীতি করে আওয়ামী লীগের মত দেশ ছেড়ে পালাতে চায় না বিএনপি, বরং আমরা মানুষের মাঝে থাকতে চাই, মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। পটুয়াখালীতে বিএনপি আয়োজিত এক জনসভায় এসব কথা বলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন।
বুধবার সকাল ১০টায় পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার মৌডুবী ইউনিয়নে স্থানীয় বিএনপির আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় নির্বাচনে দল থেকে চুরান্ত সবুজ সংকেত পাওয়া প্রার্থীদের নিজ এলাকায় জনসংযোগের নির্দেশনা পালনের অংশ হিসেবে এই জনসভা আয়োজিত হয়েছে বলে জানিয়েছে রাঙ্গাবালী উপজেলা বিএনপি। পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী-মহিপুর) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ভোটে লড়র আশা করছেন দেখা যাবে দক্ষিণাঞ্চলের প্রভাবশালী নেতা এবিএম মোশাররফ হোসেন।
এর আগে রাঙ্গাবালী উপজেলার বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের জনসভায় অংশ নিয়ে এবিএম মোশাররফ বলেন, “ইসলাম ধর্মকে ব্যাবহার করে একটি দল বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, একটি নির্দিষ্ট মার্কায় ভোট দিলেই নাকি সরাসরি জান্নাতে যাওয়া যাবে। অথচ অনেক বড় বড় ইসলামের স্কলারের কাছে জানতে চাওয়া হলে তারা স্পষ্ট করে বলেছেন এমন কোন সুযোগ আল্লাহ দেননি। এমনকি ঐ বিশেষ দলের প্রধান পীর সাহেবকে আমি নিজে প্রশ্ন করেছিলাম প্রমান দেখাতে, তিনি বলেছেন যারা এসব কথা বলে বিভ্রান্তি ছড়ায় তারা আমার দলের কর্মী হবার যোগ্যতা রাখে না বরং এরা আমাদের ক্ষতিগ্রস্ত করছে।”
এছাড়াও উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নের জনসভায় যোগ দিয়ে তিনি বলেন,”স্বৈরাচার সরকারের যেসব নেতারা সাধারণ মানুষকে কস্ট দিয়েছে, লুটপাট করেছে, মামলাবাজি করেছে তারা এখন পলাতক অথবা জেলে আছে। কিন্তু আওয়ামী লীগের অনেক সাধারণ কর্মী এবং সমর্থক আছেন যারা কারো ক্ষতি করেনি। তাদের সাথে খারাপ আচরণ করা যাবে না, তাদের অধিকার আছে নিরাপদে জীবনযাপন করার। আমরা এসব সাধারণ আওয়ামী লীগের সমর্থকদের বলতে চাই আপনারা নির্ভয়ে থাকুন, আপনাদের নিরাপত্তা দেয়ার দায়িত্ব আমরা নিলাম।”
জামায়াত ইসলামের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “পি আর পদ্ধতিতে নির্বাচন না হলে নাকি ভোটই হতে দেবে না জামায়াত। অথচ এই পি আর পদ্ধতি কি জিনিস সেটাই এই দেশের অধিকাংশ মানুষ বোঝে না। এখন তো পোলাপাইন মজার ছলে বলে ভোট দিলাম স্বন্দীপে এমপি হইছে নাকি মালদ্বীপে!”
এদিকে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে প্রশাসন ও আ'লীগের দমনের মুখে উপকূলীয় এই অঞ্চলে বিএনপির বড় কোন দলীয় কর্মসূচি কিনবা সমাবেশ আয়োজিত হয়নি। সবশেষ ২০১৮ সালের ১১ই ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে রাঙ্গাবালী উপজেলায় বিএনপির সভায় যোগ দিতে উপস্থিত হলেও আ'লীগের ক্যাডার বাহিনীর সাথে বিএনপি কর্মীদের ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে সমাবেশ না করেই ফিরে যেতে বাধ্য হন এবিএম মোশাররফ।
তবে, চলতি অক্টোবর মাসে রাঙ্গাবালী উপজেলার ৫ টি ইউনিয়নে আলাদা জনসভার ঘোষণা আসার পর থেকেই স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঝে উৎসবের আমেজ বইছিল। দীর্ঘদিনের নিস্ক্রিয়তা যেন হঠাৎই উচ্ছাসে বদলে যায় মিছিল, স্লোগান আর প্রিয় নেতার অগ্নিঝড়া বক্তব্যে। গত ৫ অক্টোবর চালিতাবুনিয়া ইউনিয়ন, ৬ অক্টোবর বড়বাইশদিয়া, ৭ অক্টোবর চরমোন্তাজ এবং ৮ অক্টোবর মৌডুবী ইউনিয়নে জনসভা সম্পন্ন হয়।
মন্তব্য করুন: