প্রকাশিত:
১১ অক্টোবর ২০২৫, ১৫:৪৯
নাটোরের গুরুদাসপুরে অপরিকল্পিতভাবে পুকুর খনন ও সংস্কারের কারণে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক জলাবদ্ধতা। এতে একদিকে যেমন কৃষিজমিতে চাষাবাদে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে গ্রামীণ সড়ক ও বসতবাড়িগুলো পানিতে ডুবে জনদুর্ভোগ চরমে উঠেছে। বিশেষ করে উপজেলার চাপিলা ইউনিয়নে এ সমস্যা এখন সবচেয়ে প্রকট আকার ধারণ করেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিকল্পনা ছাড়া পুকুর খনন করায় পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় বর্ষার পানি জমে থেকে যাচ্ছে। এতে শুধু কৃষক নয়, পুকুর চাষীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন— মাছ পরিবহনেও তৈরি হয়েছে নানা সমস্যা।
বিজ্ঞজনদের মতে, যদি এখনো পরিকল্পিতভাবে পুকুরগুলোর মাঝে পানি নিষ্কাশনের পথ ও অন্তত ৮ ফুট প্রশস্ত রাস্তা রাখা যায়, তবে একদিকে মাছ পরিবহন সহজ হবে, অন্যদিকে জলাবদ্ধতা থেকেও মুক্তি মিলবে। এতে পুকুর চাষীরা অর্থনৈতিকভাবে আরও লাভবান হবেন এবং তাজা মাছ দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে সহজে পাঠানো সম্ভব হবে।
চাপিলা ইউনিয়নের পাশাপাশি বিয়াঘাট, নাজিরপুর, মশিন্দা ও ধারাবারিষা ইউনিয়নেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। তবে পুকুরের সংখ্যার দিক থেকে চাপিলাই এগিয়ে। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গুরুদাসপুর উপজেলায় প্রায় আট হাজার পুকুর রয়েছে।
চাপিলা ইউপি চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান বলেন, অতীত দিনে অপরিকল্পিত পুকুর খননে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। সঠিক পরিকল্পনায় সমাধান না করতে পারলে ভবিষ্যতে কৃষক, পুকুর চাষী ও বসতিদের ব্যাপক সমস্যা দেখা দিবে।প্রশাসনের কাছে জোর দবী সঠিক পরিকল্পনা করে স্থায়ী সমাধানের।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা রতন চন্দ্র সাহা বলেন, “চাষিরা যদি একত্রিত হন, তাহলে পরিকল্পনার মাধ্যমে পানি নিষ্কাশন ও পুকুরের মাঝখান দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করে জলাবদ্ধতা দূর করা সম্ভব।”
উপজেলা বিএডিসি সহকারী প্রকৌশলী সাইদুর রহমান বলেন, “কৃষি, মৎস্য, ভূমি ও বিএডিসি অফিস একত্রিত হয়ে ইউএনও’র নেতৃত্বে কাজ করলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব হবে। তবে চাষীদের একত্রিত হওয়াটাই সবচেয়ে জরুরি।চাপিলায় তুলসিগঙ্গা নদীটি সরকারের নিয়ন্ত্রণে এনে দখল মুক্ত করে খনন করে দিলে জলাবদ্ধতা নিষ্কাশনে খুবই সহজ হবে ”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কে. এম. রাফিউল ইসলাম বলেন, “কৃষক ও চাষীদের কল্যাণে সবাই একসঙ্গে কাজ করলে জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধান করা সম্ভব।এলাকার সুধী জনসহ সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করলে জলাবদ্ধতা নিরসন করা সম্ভব। ”
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফাহমিদা আফরোজ বলেন, “প্রশাসন সবসময় জনকল্যাণে কাজ করে। বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আমরা সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে কৃষক, মাছচাষী ও এলাকাবাসীর কল্যাণে উদ্যোগ নেবো। জলাবদ্ধতা নিরসন করে একটি ‘স্মার্ট গুরুদাসপুর’ গড়ে তুলতে উপজেলা প্রশাসন সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করবে।”
স্থানীয়দের দাবি, অবিলম্বে সরকারি পরিকল্পনার আওতায় এনে পুকুর খনন ও সংস্কার কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে আনা না হলে ভবিষ্যতে গুরুদাসপুরের কৃষি ও মৎস্য অর্থনীতি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে।
মন্তব্য করুন: