শনিবার, ৭ই মার্চ ২০২৬, ২৩শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল nagorikdesk@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে ইরানই সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতে পারে: বিশ্লেষক
  • ব্যাংক একীভূতকরণের উদ্যোগ চলমান রাখার বার্তা গভর্নরের
  • ইসরায়েল-মার্কিন যৌথ হামলায় ইরানে নিহত বেড়ে ৫৫৫
  • আসিফ মাহমুদের ব্যাংক হিসাব তলব
  • অপরাধ দমনে আরও বেশি সক্রিয় পুলিশ
  • ঢাকার আইসিইউয়ে ওষুধ-প্রতিরোধী ছত্রাক ‘সুপারবাগ’ ছড়িয়ে পড়েছে
  • ভূমি প্রতিমন্ত্রী অফিসে গিয়ে দেখেন কর্মকর্তারা কেউ আসেননি
  • রাজধানীতে নারীদের জন্য আলাদা বাস চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
  • আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে খামেনিকে হত্যা, বিবৃতিতে বাংলাদেশ
  • মঙ্গলবার থেকে মিলবে ঈদযাত্রায় ট্রেনের টিকিট

কক্সবাজারে ভয়ংকর হয়ে উঠেছে পাচার চক্র, পালিয়ে বেড়াচ্ছে মুল হোতারা

জে এইচ এম ইউনুস, কক্সবাজার

প্রকাশিত:
১৬ অক্টোবর ২০২৫, ১৭:১৭

ককসবাজারে দিন দিন ভয়ংকর হয়ে উঠেছে পাচার চক্র। প্রশাসনের হাতে প্রতিনিয়ত ধরা পড়ছে ইয়াবা,অস্ত্র ও বিভিন্ন প্রকারের মালামাল। কিন্তু ধরা পড়ছেনা পাচার চক্র সিন্ডিকেটের মূল হোতারা। প্রশাসনের নজর ফাঁকি দিয়ে কৌশলে পালিয়ে বেড়াচ্ছে তারা। সময়ে সময়ে রাস্তা ও স্থান পরিবর্তন করার পাশাপাশি প্রশাসনের আসপাশে বিভিন্ন গোয়েন্দা নিয়োগ দিয়ে রেখেছে তারা। মায়ানমার থেকে আমদানি করছে ইয়াবা ও অস্ত্র আবার যাওয়ার সময় নিয়ে যাচ্ছে সারসহ বিভিন্ন কৃষি পন্য এবং ঔষধ ও খাদ্য সামগ্রী।

আজ (১৬ অক্টোবর) কোস্ট গার্ড কক্সবাজার অফিস থেকে জানানো হয় মহেশখালীর বরদিয়ার একটি চিংড়ি প্রজেক্টের পাশ থেকে বিপুল পরিমাণ সার ও বিভিন্ন প্রকারের ঔষধ এবং খাদ্য সামগ্রী আটক করেছে কোস্ট গার্ডের সদস্যরা। কোস্ট গার্ড অফিসের তথ্যের বিত্তিতে প্রতিবেদক সোর্সের মাধ্যমে জানতে পারেন ঐ ঘোনার সিমানা থেকে দীর্ঘদিন যাবত পাচার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় বড় এক সিন্ডিকেট। কিছুদিন আগেও মাতারবাড়ী বন্দরের পাশ থেকে একই সিন্ডিকেটের বড় একটি চালান আটক করে ছিল কোস্ট গার্ড কক্সবাজার। কোস্ট গার্ড থেকে মালামাল ও বহনকারী বোটটি বড় মহেশখালীর গফুর নামক এক ব্যক্তির বলে তারা তথ্য পেয়েছে বলে জানালেও আসামি গ্রেফতারের সুবিধার্থে এই সিন্ডিকেট প্রধানের পুর্নাঙ্গ বায়োডাটা প্রকাশ করেনি।

একই ধারাবাহিকতায় গত ২৬ আগস্ট কক্সবাজারের ৬ নং ঘাট থেকে চার লক্ষ ষাট হাজার পিচ ইয়াবা আটক করেছিল RAB-১৫ কক্সবাজার অফিস। সেই সময়ে ইয়াবার সাথে ৮ মাঝিমাল্লা আটক করতে করেছিল। আটক মাঝিমাল্লাদের তথ্য অনুযায়ী ইয়াবা পাচার চক্রের মুল হোতা মহেশখালীর বোরহান বলে জানালেও এখনও গ্রেফতার হয়নি পাচার সিন্ডিকেটের বোরহান। ইতি পুর্বে ৭ তারিখ যৌথ বাহিনী অভিযান পরিচালনা করে কুতুবজোম ইউনিয়ন থেকে এক কোটি পঞ্চাশ হাজার মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করেছিল যার বাজার মুল্যে হিসেবে কোস্ট গার্ডের পেইজ থেকে জানানো হয়েছিল একশো কোটি পাঁচ লক্ষ টাকা। কিন্তু তখনও এই বিশাল পাচার চক্রের কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি যৌথ বাহিনী। উখিয়া এবং টেকনাফের চেকপোস্টে নিয়মিত গ্রেফতার করে যাচ্ছে ইয়াবা বহনকারীদের। ধরা পড়ছে অস্ত্র চালানও।

এই সিন্ডিকেটে বাংলাদেশিদের সাথে পাল্লা দিয়ে জড়িত হচ্ছে রোহিঙ্গারাও। তবে কক্সবাজারের সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, কোথায় এই বিশাল পাচার চক্রের সাথে জড়িত বড় রাঘববোয়ালরা, কেনোবা তারা গ্রেফতার হচ্ছে না। তাদের সাথে পুলিশ প্রশাসন বা বড় কেউ জড়িত কিনা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছে কক্সবাজারের সচেতন মহল। কক্সবাজার ঘুরে প্রতিবেদনে দেখা যায় সাগর পথের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে এই পাচার চক্র মালামাল উঠানামা করে থাকেন। উখিয়া টেকনাফের বাহারছরা, ইনানী সৈকতের কাছাকাছি দুই একটি পয়েন্ট, কক্সবাজারের নাজিরারটেক, সদরের চৌফলদন্ডী, কুরুস্কুল, মহেশখালীর কুতুবজোম, ঘটিভাঙ্গা, সোনাদিয়া, বরদিয়া এবং মাতারবাড়ীর সাগর পথ থেকে মায়ানমারের বিভিন্ন সিন্ডিকেটের সাথে মিলে এই পাচার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের এই সিন্ডিকেটগুলো গ্রেফতারের আওতায় আনতে না পারলে অচিরেই দেশে সার সংকট ও বিভিন্ন দ্রব্য মূল্যের দাম বেড়ে যেতে পারে।


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর