প্রকাশিত:
২৬ অক্টোবর ২০২৫, ১৬:৩৯
ভোলা জেলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরা এই উপজেলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ ৫ নং চর কলাতলী ইউনিয়ন এলাকার কবির বাজার খালের উপর বাঁশের সাঁকো দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার হচ্ছে শিশু, বৃদ্ধ গর্ভবতী মা-সহ প্রায় ২ হাজার পরিবারের মানুষ।
মনপুরা উপজেলা'র বিচ্ছিন্ন চর কলাতলী ৫ ইউনিয়নের কবির বাজার এলাকায় খালের উপর এমনই চিত্র দেখা গেছে। এতে বহু বছর ধরে ভোগান্তিতে আছেন কবির বাজার খাল পাড়ের শিশু বৃদ্ধ সহ প্রায় ২ হাজার বাসিন্দারা। কবির বাজার খালটি বড় হওয়ায় আবাসন বাজার, কবির বাজার, হিন্দু আবাসন বাজার, কলাতলী তে একটি নির্ম মাধ্যমিক স্কুল, মাদ্রাসা'য় প্রবেশের একমাত্র উপায় গাছের সাঁকো। বহু কাল ধরে মানুষ ঝুঁকি নিয়ে গাছের সাঁকো দিয়ে পারাপার হচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০ বর্গকিলোমিটারের চর কলাতলী ৫ নং ইউনিয়ন এর চার পাসে মেঘনা নদী । মাঝখানে মনপুরা উপজেলা'র বিচ্ছিন্ন দ্বীপ চর কলাতলী । মনপুরা উপজেলায় প্রবেশ এর একমাত্র মাধ্যম নৌকা। আবার এই বিচ্ছিন্ন দ্বীপ চর কলাতলীতে রয়েছে অসংখ্য বড় বড় খাল যেই খাল দিয়ে মানুষ বাজারে প্রবেশ করতে হলে ব্যাবহার করতে হয় ৩০-৪০ খুঁটির মতো সাঁকো। ৩০-৪০ খুঁটির সাঁকো ছাড়া নেই কোন বিকল্প রাস্তা । তবে বড় বড় খল পার হয়ে বাজার স্কুল, মাদ্রাসায় প্রবেশের জন্য নেই কোনো সেতু বা সড়ক। দীর্ঘদিন ধরে ৫ নং চর কলাতলী ইউনিয়ন এর কবির বাজার খালের এলাকার বাসিন্দারা নিজ উদ্যোগে তৈরি করা গাছের সাঁকো দিয়ে পারাপার হচ্ছেন। ফসল ও ভারী জিনিসপত্র বহনেও চরম ঝুঁকিতে পড়েন চর কলাতলী ইউনিয়ন এর কবির বাজার খাল এলাকার বাসিন্দারা।
চর কলাতলী স্কুল-মাদ্রাসার শিশু শিক্ষার্থীরা ও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গাছের সাঁকো পারা পার হতে হয় । বর্ষাকালে খালে পানি বেড়ে গেলে দেখা দেয় আতঙ্ক। বিভিন্ন সময় সাঁকো দিয়ে পারাপারের সময় ঘটে দুর্ঘটনা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বহুদিন ধরে চর কলাতলী এলাকার কবির বাজার খালের উপর ব্রিজ তৈরির দাবি জানিয়ে আসছে গ্রামের লোকজন। কিন্তু আজও একটা ব্রিজ নির্মাণ হয়নি। ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী জানায়, দেশের সরকার আসে, সরকার যায়। কিন্তু সওদাগর খালের উপর একটা ছোট্ট ব্রিজ কেউ করে দেয়না। কবির বাজার এলাকায় চাষাবাদ করতে যান আশেপাশের গ্রামের মানুষ। তাদেরও একমাত্র পারাপারের অবলম্বন গাছের সাঁকো।
এছাড়া চাষাবাদের জন্য আধুনিক মেশিন কবির বাজার এলাকায় নেয়া যায় না। উৎপাদিত ফসল আনা-নেয়ার কাজেও প্রায়ই ক্ষতির মুখে পড়েন কৃষক। গ্রামে নেই কোনো রাস্তা। ব্রিজ না হওয়ায় ভেঙে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা।
স্থানীয় বাসিন্দা মিজান, আল-আমিন বলেন, ছবি তুলে আর কি করবেন। মাঝেমধ্যেই সাংবাদিক এসে ছবি তুলে নিয়ে যায়। কিন্তু আজও আমাদের ব্রিজ হলো না। ছেলেমেয়েরা স্কুলে যেতে ভয় পায়। বর্ষাকালে খালে পানি বেড়ে গেলে বয়স্ক, নারী ও শিশুরা চলাফেরা করতে পারেনা রাস্তাঘাট হয়নি। কবির বাজার এলাকার বাসিন্দারা ঘর-বাড়ি করতে পারছেনা। ব্রিজ না থাকায় খাল পার করে ইট-বালুর মতো ভারী জিনিস তারা গ্রামে নিতে পারে না। এলাকার জনপ্রতিনিধি বদলায়, কিন্তু আমাদের গ্রামের এই গাছের সাঁকো আজও বদলালো না।
চর কলাতলী ইউনিয়ন এর বাসিন্দা মমিন জানান, আমাদের ছেলে মেয়েরা স্কুলে যেতে ভয় পায়। খাল পার হতে গিয়ে বাচ্চারা অনেক সময় পানিতেও পড়ে যায়। গাছের সাঁকো পার হওয়া তো কঠিন। সরকারের কাছে আবেদন, আমাদের কবির বাজার এলাকায় একটা ছোট্ট ব্রিজ হলেও যেন তারা বানিয়ে দেয়।
এই বিষয়ে চর কলাতলী ইউনিয়ন এর জনপ্রতিনিধি মো: জোবায়ের হাসান রাজিব চৌধুরী জানান,চর কলাতলী'র কবির বাজার খালের সাঁকো টির ব্যাপারে আমাকে এলাকাবাসী জানিয়েছে। তিনি আরও জানান, দীর্ঘ ১৭ বছর আওয়ামী সরকার ক্ষমতায় থেকেও চর কলাতলী'র কোন উন্নয়ন করেননি। এই বার যদি বিএনপি ক্ষমতায় আসে এবং আমি যদি কলাতলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হতে পাড়ি তাহলে আমি কলাতলী ইউনিয়ন এর মানুষের দুঃখ দুর্দশা নিয়ে কাজ করব।
এই বিষয়ে চর কলাতলী ইউনিয়ন এর প্রশাসক মোস্তাফিজুর রহমান এর সাথে একাধিক বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয় নি।
মন্তব্য করুন: