প্রকাশিত:
২৬ অক্টোবর ২০২৫, ১৮:০৫
নেত্রকোণায় এক সমন্বয় সভায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছিলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনে প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত জাতীয় নাগরিক পার্টি। এমন চ্যালেঞ্জ নিতে আমরা অভ্যস্ত।
জাতীয় নাগরিক পার্টি এক মাস হয়েছে আত্মপ্রকাশ করেছে। আমরা আমাদের জায়গা থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো যেন সৎ, যোগ্য ও দেশপ্রেমিক প্রার্থীদের মনোনয়ন দেওয়া যায়। এই চ্যালেঞ্জ নিয়ে নিজেকে প্রস্তুত করে মাঠে নেমেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) প্রীতম সোহাগ।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন'কে সামনে রেখে নেত্রকোণা জেলার ৫টি সংসদীয় আসনে প্রার্থী ও সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে। তাঁদের বেশির ভাগ ব্যস্ত আছেন গণসংযোগে। এ ছাড়া তাঁরা যোগ দিচ্ছেন স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে। সভা-সমাবেশ, উঠান বৈঠক, পোস্টার, বিলবোর্ডে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিচ্ছেন।
এসবের মধ্যদিয়ে চলছে নির্বাচনীয় প্রস্তুতি, শুরু হয়ে গেছে প্রচার প্রচারনা। নেত্রকোণা সারা জেলা মিলিয়ে রয়েছে ৫ টি আসন। এর মাঝে সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আসন নেত্রকোণা-২: জেলা সদর ও বারহাট্টা উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনটি। এটি জেলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আসন।
এই আসনে বিএনপি থেকে ৫ জন প্রার্থী মনোনয়ন আশা করছেন। জামায়াতে ইসলামী দল থেকে মনোনয়ন আশা করছেন ৩ জন প্রার্থী। এছাড়াও নতুন প্রজন্মের নতুন দল হিসেবে নিবন্ধন পেয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপি। এনসিপি থেকে ভোট যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছেন ২ জন প্রার্থী। তাদের মধ্যে মাঠে দৌড়ঝাঁপে এগিয়ে রয়েছে কেন্দ্রীয় সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) প্রীতম সোহাগ।
প্রীতম সোহাগ নেত্রকোণা পৌর শহরের ৪নং ওয়ার্ড গজিনপুর গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর কার্যালয়ের কর্মকর্তা মৃত মোঃ ওয়ালী উল্লাহ এর মেঝো ছেলে।
তার স্কুল জীবন শুরু হয় নেত্রকোণা পৌর শহরের পূর্ব মঈনপুর এলাকার আদর্শ পৌরঃ রেজিঃ প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে। পরবর্তী সময়ে ২০১৬ সালে নেত্রকোণা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জিপিএ ৫ পেয়ে এসএসসি কমপ্লিট করেন। নেত্রকোণা সরকারি কলেজ থেকে ২০১৮ সালে এইচএসসি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিভাগে এলএলবি (অনার্স) সম্পন্ন করেন। এলএলএম (মাস্টার্স) চলমান রয়েছে।
বর্তমান বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টে শিক্ষানবিশ আইনজীবী হিসেবে প্র্যাকটিস করছেন তিনি।
গত ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে একজন ছাত্র হিসেবে ঢাকার রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন সোহাগ।
এরপরে তিনি জেলা সদরের সন্তান হিসেবে এলাকায় এসে সব সময় মানুষের আপদে-বিপদে পাশে থেকে ভালোবাসা, পরিচিতি এবং সুনাম অর্জন করেছেন তিনি। এ ছাড়াও তিনি নিজ উপজেলা সহ বারহাট্টা উপজেলায় বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছে।
নেত্রকোণা সদর উপজেলা ও বারহাট্টার সকল সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ গ্রহন করে খুব অল্প সময়ে মানুষের মনে জায়গাও করে নিয়েছেন এই এনসিপি নেতা এবং সম্ভাব্য প্রার্থী প্রীতম সোহাগ।
নেত্রকোণা-২: জেলা সদর ও বারহাট্টা উপজেলা নিয়ে গঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ আসনে তরুণ এই নেতা ইতিমধ্যে যুবসমাজের মধ্যে নজর কাড়তে সক্ষম হয়েছেন বলে মনে করছেন অনেকেই।
তবে এ নির্বাচনী আসনের সাধারণ কর্মী-সমর্থক ও ভোটাররা মনে করছেন, এনসিপি'র মনোনীত প্রার্থী হিসেবে "প্রীতম সোহাগ" অনান্য রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের সঙ্গে ভোটের মাঠে লড়াই করার যোগ্যতা রাখেন তিনি।
গুরুত্বপূর্ণ আসনটিতে বিএনপি'র সঙ্গে সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীও অনেকটাই এগিয়ে। তাই এ আসনে লড়াই করে টিকে থাকতে হলে জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপি থেকে প্রীতম সোহাগ'কে মনোনয়ন দিয়ে তাদের একক প্রার্থী মনোনীত করা উচিত বলে মনে করেন জনসাধারণ।
দৈনিক নাগরিক সংবাদ এর প্রতিনিধি'কে জানান, ৫ আগস্টে পর থেকে নেত্রকোণায় ধর্মীয় সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় পূজা,কীর্তণ আয়োজন করে দেওয়া, অসংখ্য মন্দির-মসজিদ ও মাদ্রাসা সংস্কার দেওয়া, অসংখ্য সুবিধা বঞ্চিত শিশুকে স্কুল ও মাদ্রাসায় বিনাবেতন ও ভর্তির ব্যবস্থা করে দিয়েছি।
জেলার বন্যাকবলিত এলাকা গুলোতে ৫০০০ হাজারের বেশি পরিবারকে ত্রাণ বিতরণ, স্থানীয় জনগণকে কাজে লাগিয়ে প্রশাসনের সহায়তায় অসংখ্য ভাঙা রাস্তা মেরামত ও কাঁচারাস্তা পাকা করে দিয়েছি,দলিত ও হিজড়া জনগোষ্ঠীর বিপদে পাশে থাকছি,স্কুল- কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রীদের কারো ভর্তি ফিস মেনেজ করে দেওয়া, কারো পরীক্ষার ফর্ম ফিলআপ করে দিচ্ছি।
প্রতিবন্ধী ও বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের হুইল চেয়ার ম্যানেজ করে দেওয়া, সরকারি ভাতার আওতায় আসতে সহযোগিতা করেছি। জেলার সাংস্কৃতিক অঙ্গণ ও ক্রীড়াঙ্গণে সর্বোতভাবেই জড়িত আছি; জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য হিসেবে ক্রিকেট,ফুটবল, কাবাডি সহ বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলার আয়োজন করে যাচ্ছি।
জেলা রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির আজীবন সদস্য এবং বর্তমান এডহক কমিটির কার্যকরী সদস্য হিসেবে আর্ত-মানবতার সেবায় কাজ করে যাচ্ছি।
চব্বিশের জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও আহত পরিবারসমূহের পাশে থাকছি। সর্বোপরি সামাজিক সচেতনতা ও নাগরিক দায়িত্ব পালন করে আসছি,।এছাড়াও জেলা প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সুশৃঙ্খল ও সুন্দরভাবে ভাবে রাষ্ট্র পরিচালনায় রাজনৈতিক অঙ্গণ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করে যাচ্ছি।
তিনি আরো বলেন, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কেন্দ্রীয় এবং তৃণমূলে এনসিপির নেতা-কর্মীর সংখ্যাবৃদ্ধিকরণ, মাঠ পর্যায়ে দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা এবং সরকার ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের জনবিরোধী সিদ্ধান্তের যৌক্তিক সমালোচনা করে যাচ্ছি। পলাতক স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের দুষ্কৃতিকারীদের বিরুদ্ধে মাঠে স্বেচ্ছার অবস্থানে থাকছি।
আমি এবং আমার সংগঠন এনসিপির নেতা কর্মীগণ নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি।
নেত্রকোণা সদর এবং বারহাট্টার সাধারণ জনগণের কাছে দোয়া/আশীর্বাদ চাইতে যাচ্ছি, নিয়মিত নির্বাচনমূখী কর্মসূচি করছি, আমার দল এনসিপি আমাকে নেত্রকোণা-২ (নেত্রকোণা সদর - বারহাট্টা) আসনের জন্য মনোনীত করলে ইন শা আল্লাহ আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থীতা করবো।
ইনশাআল্লাহ, আমি নির্বাচিত হলে রাষ্ট্রের যুগোপযোগী আইন প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবো। জনস্বার্থ বিরোধী সরকারের সকল সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করবো, করণীয় প্রস্তাব করবো।
জেলায় শিক্ষার বিশেষত প্রাথমিক ও উচ্চ শিক্ষার আরো বিস্তার করবো,স্বাস্থ্য খাতের আরো উন্নতি করবো, সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে কর্মসংস্থান তৈরী করবো, যাতায়াত ব্যবস্থার দৃশ্যমান উন্নয়ন ও অবকাঠামো নির্মাণ করবো, মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসনের সাথে সমন্বিত ভাবে পদক্ষেপ নিবো। প্রতিটা এলাকায় খেলার মাঠ নির্মাণ করবো। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য সনাতনী উপদেষ্টা কাউন্সিল গঠন করে তাদের কল্যাণার্থে সিদ্ধান্ত নিবো।
মন্তব্য করুন: