প্রকাশিত:
১ নভেম্বর ২০২৫, ১৩:৩১
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নে পারিবারিক কলহের জেরে নিজের শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়া যুবক রায়হান মিয়া (২৭) অবশেষে মৃত্যুবরণ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) ভোররাত ৩টার দিকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোকলেছুর রহমান মন্ডল।
এর আগে গত মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) রাতের দিকে রায়হান মিয়া নিজের শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। প্রথমে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়; পরে অবস্থা গুরুতর হলে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। রায়হান ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের উত্তর ধোপাডাঙ্গা গ্রামের চান মিয়ার ছেলে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, রায়হান মিয়া প্রায় ১০ বছর আগে একই ইউনিয়নের বড় দিঘিরপাড় গ্রামের আদুরী বেগমকে বিয়ে করেন। তাদের দুটি সন্তান রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে রায়হান অনলাইন জুয়ায় আসক্ত ছিলেন এবং অন্য নারীর প্রতি অনৈতিক সম্পর্কের কারণে পারিবারিক অশান্তি তৈরি হয়। কিছুদিন আগে স্থানীয় এক নারীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় ধরা পড়লে শাশুড়ির চাপে স্ত্রী নিজের গহনা বিক্রির টাকা দিয়ে রায়হানকে মুক্ত করেন।
এরপরও রায়হান আরও এক নারীকে বিয়ে করার প্রস্তাব দেন, যা মেনে নেননি স্ত্রী আদুরী। ফলে দাম্পত্য কলহ তীব্র আকার ধারণ করে। ক্রমাগত নির্যাতনের কারণে আদুরী সন্তানদের নিয়ে বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেন।
ঘটনার দিন রায়হানের বাবা ছেলের বউকে বাড়ি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেন। আদুরী কিছু শর্ত দেন— রায়হানকে জুয়া বন্ধ করতে হবে ও শারীরিক নির্যাতন করা যাবে না। বিষয়টি জানার পর রায়হান মোবাইল ফোনে বাবাকে হুমকি দেন এবং স্ত্রীকে আনতে নিষেধ করেন। কিছুক্ষণ পর ক্ষোভে নিজের শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন তিনি। আগুনে দগ্ধ হয়ে পরে পুকুরে ঝাঁপ দিলেও ততক্ষণে তার শরীরের অধিকাংশ অংশ পুড়ে যায়।
রায়হানের শাশুড়ি জানান, “আমার মেয়েকে নিতে বিয়াই (শ্বশুর) এসেছিলেন। মেয়ে রাজিও হয়েছিল, তবে শর্ত দিয়েছিল যেন তার স্বামী আর মারধর না করে। কিন্তু সেই শর্ত মানার আগেই এমন ঘটনা ঘটে গেল।”
এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আবদুল হাকিম আজাদ বলেন, “ঘটনাটি আমরা জানি, তবে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।”
মন্তব্য করুন: