প্রকাশিত:
১ নভেম্বর ২০২৫, ১৬:১৮
ধান খেতের ক্ষতিকর পোকা-মাকড় দমনে পার্চিং একটি কার্যকর পদ্ধতি হিসেবে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। কয়েক বছর আগেও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠে গিয়ে নিজ উদ্যোগে পার্চিং করে দিতেন।
পার্চিং উৎসব করেও কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হতো। মাত্র কয়েক বছরেই পদ্ধতিটি এত জনপ্রিয়তা পেয়েছে যে এখন চারা রোপণের দিনই কৃষক নিজেই পার্চিং করে দিচ্ছেন। বিশেষ করে ধানের মাজরা পোকা দমনে পার্চিং পদ্ধতিতে বেশ ফল পেয়েছেন তারা।
পলাশে ইরি-আমন রোপণ প্রায় শেষ হয়েছে। চারা রোপণ করেই কৃষকেরা ধানখেতে গাছের ডাল বা বাঁশের কঞ্চি পুঁতে দিয়েছেন। মূলত কীটনাশকের ব্যবহার কমিয়ে পরিবেশবান্ধব উপায়ে ফসল উৎপাদন করতেই পার্চিং পদ্ধতি বেশ জনপ্রিয় হচ্ছে।
সাধারণত ‘লাইভ পার্চিংথ ও ‘ডেথ পার্চিংথ নামের দুই ধরনের পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার হয়। ধানখেতে প্রতি একরে ৮ থেকে ১০টি বাঁশের কঞ্চি বা গাছের ডাল পুঁতে দেওয়াকে পার্চিং বলা হয়। পার্চিংয়ে (গাছের ডালে) ফিঙে, শালিক, দোয়েলসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি বসার সুযোগ তৈরি হয়। পাখিরা সুযোগ বুঝে ধানখেতে থাকা ক্ষতিকর পোকা ধরে খেয়ে ফেলে।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, গ্রামগঞ্জের বিস্তৃত জমিতে ধানের নতুন চারা রোপণ করা হয়েছে। এবার প্রায় প্রতিটি খেত পার্চিংয়ের আওতায় এসেছে।
উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ বছর উপজেলার ২০টি কৃষি ব্লকে প্রায় ১২ হাজার হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ওই সব খেতে ক্ষতিকর ঘাসফড়িং, পাতা মোড়ানো পোকা, চুঙ্গি ও মাজরা পোকার আক্রমণ দেখা দিতে পারে। এসব পোকার আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষায় শুরু থেকেই কৃষকদের পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। এতে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় থাকে।
এ বিষয়ে ডাংগা এলেকার ইসলামপুর গ্রামের কৃষক কাশেম আলি ও সিরাজুল বলেন, ‘পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহারের ফলে কীটনাশকের ব্যবহার অনেকটা কম হয়। পদ্ধতিটি আমরা প্রতিবছরই ব্যবহার করি।থ
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আবু সালেহ মো: মুসলেইদ্দিন বলেন, পার্চিং কৃষিও পরিবেশবান্ধব একটি পদ্ধতি। পদ্ধতিটি কৃষকদের মাঝে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এ পদ্ধতিতে কোনো খরচ ছাড়াই ক্ষতিকর পোকার আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষা করা যায়। কৃষি বিভাগ কৃষকদের পার্চিং পদ্ধতির বিষয়ে নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে।
মন্তব্য করুন: