প্রকাশিত:
৩ নভেম্বর ২০২৫, ১৪:২৮
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই দিন থেমে থেমে দু’দল গ্রামবাসীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
এমন ঘটনাটি ঘটে ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামে।
রবিবার দুপুর ৩ টার দিকে জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে সালিশ বৈঠক শুরু হওয়ার আগে দু'দল গ্রামবাসী রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে দুই দলের অন্তত ৬০ জন আহত হয়।
এদের মধ্যে একটি দলের নেতৃত্ব দেন লিটন মাতুব্বর এবং অন্য দলের নেতৃত্ব দেন কুদ্দুস মুন্সী।
পুনরায় সোমবার সকাল ৮টার দিকে লিটন মাতুব্বরের দলের মিন্টু নামের এক যুবককে মারধরের জেরে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে অন্তত ১৫ জন আহত হন এবং প্রায় ২০টি বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে ভাঙ্গা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এছাড়া আশপাশের গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও সংঘর্ষ থামাতে সহযোগিতা করেন।
স্থানীয়রা জানান, রোববার বিকেলে লিটন মাতুব্বর ও কুদ্দুস মুন্সীর দলীয় লোকজনের মধ্যে একটি জমি নিয়ে সালিশ বৈঠক বসার কথা ছিল। কিন্তু সালিশকে কেন্দ্র করে বিকেল তিনটা থেকে শুরু হয় সংঘর্ষ, যা চলে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত। ওই ঘটনায় অন্তত ৬০ জন আহত হন। আজকের সংঘর্ষটি সেই ঘটনারই ধারাবাহিকতা।
সোমবার সকালে কুদ্দুস মুন্সীর লোকজন লিটন মাতুব্বর গ্রুপের মিন্টুকে মারধর করলে আবারও দুই পক্ষ উত্তেজিত হয়ে ওঠে। পরে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র—ঢাল, টেটা, কালি, কাতরা ও ইটপাটকেল নিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে লিপ্ত হয় তারা। এতে বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের শিকার হয়।
ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. তানজীরুল ইসলাম মামুন বলেন, “সোমবার সকালে গোপীনাথপুর গ্রামের সংঘর্ষে আহত অন্তত ১৫ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। কয়েকজনকে ভর্তি রাখা হয়েছে।”
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফ হোসেন বলেন, “গতকালের সূত্র ধরে আজ সকালে একই গ্রামের দুই দলের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক, এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।”
মন্তব্য করুন: