শনিবার, ৭ই মার্চ ২০২৬, ২৩শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল nagorikdesk@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে ইরানই সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতে পারে: বিশ্লেষক
  • ব্যাংক একীভূতকরণের উদ্যোগ চলমান রাখার বার্তা গভর্নরের
  • ইসরায়েল-মার্কিন যৌথ হামলায় ইরানে নিহত বেড়ে ৫৫৫
  • আসিফ মাহমুদের ব্যাংক হিসাব তলব
  • অপরাধ দমনে আরও বেশি সক্রিয় পুলিশ
  • ঢাকার আইসিইউয়ে ওষুধ-প্রতিরোধী ছত্রাক ‘সুপারবাগ’ ছড়িয়ে পড়েছে
  • ভূমি প্রতিমন্ত্রী অফিসে গিয়ে দেখেন কর্মকর্তারা কেউ আসেননি
  • রাজধানীতে নারীদের জন্য আলাদা বাস চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
  • আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে খামেনিকে হত্যা, বিবৃতিতে বাংলাদেশ
  • মঙ্গলবার থেকে মিলবে ঈদযাত্রায় ট্রেনের টিকিট

নারায়ণগঞ্জে পোশাক শ্রমিকের মৃত্যু: ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধে সহকর্মীদের বিক্ষোভ

রাসেল হোসাইন, সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ)

প্রকাশিত:
৩ নভেম্বর ২০২৫, ১৭:৫২

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার মদনপুর এলাকায় অবস্থিত লারিজ ফ্যাশন লিমিটেড নামের একটি পোশাক কারখানার নারী শ্রমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সহকর্মীরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন।

সোমবার (৩ নভেম্বর) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত চলা এই অবরোধে মহাসড়কের কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়, ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।

শ্রমিক ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত রবিবার রাতে কারখানায় দায়িত্ব পালনকালে সুইং সেকশনের অপারেটর রিনা (৩০) হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে এবং সেখান থেকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
মৃত রিনা কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার দুলাল মিয়ার মেয়ে বলে জানা গেছে।

রিনার সহকর্মীদের অভিযোগ, তিনি অসুস্থতার কারণে আগে থেকেই ছুটি চেয়েছিলেন, কিন্তু কারখানা কর্তৃপক্ষ অনুমতি দেননি। বাধ্য হয়ে কাজ করতে থাকায় তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে এবং শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর দিকে যায়। শ্রমিকরা দাবি করছেন, রিনার মৃত্যুর জন্য কারখানা কর্তৃপক্ষই দায়ী। তারা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের চাকরিচ্যুতির দাবি জানান।

এ ঘটনায় সোমবার সকালে কারখানার শ্রমিকরা কাজে যোগ না দিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন এবং মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন।
বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিয়াকত আলী জানান, “শ্রমিকরা সকাল থেকে মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন। পুলিশ শান্তিপূর্ণভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে শ্রমিকরা কিছুটা শান্ত হন এবং অবরোধ তুলে নেন। এরপর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।”

তিনি আরও জানান, শিল্প পুলিশের সদস্যরা শ্রমিক ও মালিকপক্ষের সঙ্গে বসে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছেন। শ্রমিকদের দাবি ও অভিযোগ বিবেচনা করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে, লারিজ ফ্যাশন লিমিটেডের এক কর্মকর্তা বলেন, “রিনা অসুস্থ বোধ করলে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেই দ্রুত তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তার মৃত্যুর পেছনে কোনো গাফিলতি নেই।” তিনি আরও জানান, রিনার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তার দাফন-কাফনের পুরো দায়িত্ব কারখানার পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে।

বিকেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও শ্রমিকদের মধ্যে এখনও ক্ষোভ বিরাজ করছে। শিল্প পুলিশ বলছে, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর