শনিবার, ৭ই মার্চ ২০২৬, ২৩শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল nagorikdesk@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে ইরানই সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতে পারে: বিশ্লেষক
  • ব্যাংক একীভূতকরণের উদ্যোগ চলমান রাখার বার্তা গভর্নরের
  • ইসরায়েল-মার্কিন যৌথ হামলায় ইরানে নিহত বেড়ে ৫৫৫
  • আসিফ মাহমুদের ব্যাংক হিসাব তলব
  • অপরাধ দমনে আরও বেশি সক্রিয় পুলিশ
  • ঢাকার আইসিইউয়ে ওষুধ-প্রতিরোধী ছত্রাক ‘সুপারবাগ’ ছড়িয়ে পড়েছে
  • ভূমি প্রতিমন্ত্রী অফিসে গিয়ে দেখেন কর্মকর্তারা কেউ আসেননি
  • রাজধানীতে নারীদের জন্য আলাদা বাস চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
  • আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে খামেনিকে হত্যা, বিবৃতিতে বাংলাদেশ
  • মঙ্গলবার থেকে মিলবে ঈদযাত্রায় ট্রেনের টিকিট

৩৭৩ বর্গকিলোমিটারের মনপুরায় স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থা আদৌও কী ঠিক হবে ?

মোহাম্মদ মেহেদী হাসান, মনপুরা (ভোলা)

প্রকাশিত:
৯ নভেম্বর ২০২৫, ১৫:১৬

একটি দেশের সার্বিক স্থিতাবস্থা উন্নয়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হিসেবে কাজ করে থাকে। সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য শহর এবং গ্রাম উভয় দিকে সমানভাবে নজরদারি ও বরাদ্দ প্রদান করা প্রয়োজন। কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায়, মেগা প্রকল্পগুলোর দিকে অধিক দৃষ্টি প্রদান করতে গিয়ে ছোট-খাট অনেক জায়গায়ই আলোচনার বাইরে থেকে যায়। কিন্তু গ্রাম শহর উভয় জায়গায়ই উন্নয়নের জন্য সমান নজরদারি দেওয়া প্রয়োজন। তাছাড়া কিন্তু সামষ্টিক উন্নয়ন কখনোই সম্ভব না। এখনো গ্রামে-গঞ্জে শহরের তুলনায় বেশি মানুষ বসবাস করে, তাই গ্রামের সার্বিক বিষয়ে সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সকলের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও নজরদারি গ্রামীণ সমাজে কাঙ্খিত পরিবর্তন আনয়নে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে।

বিশেষ করে ভোলা জেলা'র বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরা দ্বীপের যোগাযোগ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ইত্যাদি বিষয়ে সজাগ দৃষ্টি উপস্থাপন করলে মনপুরা দ্বীপের গ্রামীণ সমাজে উন্নয়নের ছোঁয়া পরিলক্ষিত হতো। এ কথা অস্বীকার করার অবকাশ থাকে না যে, কিছু কিছু জায়গায় উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার অপ্রতুলতার কারণে মনপুরা দ্বীপের প্রায় দেড় লক্ষ জনগোষ্ঠী এখনো উন্নয়নের ধরা ছোঁয়ার বাইরে। এমনো দেখা গেছে একটি মাত্র ব্রীজ এবং উন্নত যানবাহনের কারণে প্রায় দেড় লক্ষাধিক মানুষ উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। আবার এমনো দেখা যায়, তিন /চার কিলোমিটার রাস্তা পাকাকরণের আওতায় নিয়ে আসলে মনপুরা উপজেলার হাজার হাজার মানুষের জীবনযাত্রা বহুলাংশে উন্নত ও আধুনিক হবে। আবার বলা যায়, গ্রাম পর্যায়ে সরকারের বরাদ্দের বিষয়ে নজরদারি ও জবাবদিহীতার সমন্বয়ে কাজ করে যেতে পারলে পরিস্থিতি আরো উন্নত ও আধুনিক হবে। কাজেই আলোচিত সব বিষয়ের উপর আলোকপাত করা অত্যন্ত জীবনমুখী ও সমাজের কাঙ্খিত পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে নিঃসন্দেহে।

মানুষের মৌলিক অধিকারের মধ্যে স্বাস্থ্য অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত। রাষ্ট্রের সকল নাগরিকের স্বাস্থ্যের অধিকার নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। রাষ্ট্র কোনভাবেই এ সংক্রান্তে দায় এড়াতে পারে না। নাগরিকের স্বাস্থ্য সেবা সংক্রান্ত সচেতনতা সৃষ্টিতেও উদ্যোগ গ্রহণ করে সরকার। কিন্তু ভোলা জেলা মনপুরা উপজেলা'র দেড় লাখ মানুষের জীবন যাত্রায় দেখা যায়, স্বাস্থ্য পরিসেবা থেকে দূরত্ব, যথাযথ সেবা না পাওয়া, সেবার অপ্রতুলতা ইত্যাদি কারণে সাধারণ মানুষ স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ হতে সেবা গ্রহণ করতে অনিচ্ছুক থাকে। আবার এমনো দেখা যায়, মনপুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুরাতন ভবনটি তে দেখা যায় দীর্ঘদিন ধরে সংষ্কারের অভাবে জীর্ণশীর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। কাজেই এমনো বলা যায়, উপযুক্ত পরিবেশ এবং স্বাস্থ্যকর্মী ও ডাক্তারদের অভাবে মনপুরার স্বাস্থ্য খাতের পরিবেশ প্রতিনিয়ত প্রতিকূলে চলে যাচ্ছে। মনপুরা উপজেলার স্বাস্থ্য সেবার অবস্থার পরিবর্তন অত্যন্ত প্রয়োজন ।

কমপ্লেক্সটির অবকাঠামো প্রয়োজনীয় সংস্কারের অভাবে দিনকে দিন নাজুক অবস্থায় পতিত হচ্ছে। খুবই নাজুক যেখানে কর্মরতদের তেমন টয়লেট সুবিধাও নেই, পাশাপাশি যে কক্ষে বসে কর্মরতরা ডিউটি করেন সেখানে বসার তেমন ভাল পরিবেশ নেই বললেই চলে। অথচ এ ভবনটি যথাযথ উদ্যোগ নিয়ে সংস্কার করলে দীর্ঘদিন ভবনটি থেকে স্বাস্থ্য সেবা প্রদানের কাজটি সঠিকভাবে সম্পন্ন করা যাবে।

দ্বিতীয় যে কারণটিকে চিহ্নিত করা হয়েছে সেটি হলো: কর্মরত স্টাফদের ব্যবহার সাধারণ মানুষদের নিকট গ্রহণযোগ্য নয় এবং স্টাফদের উপস্থিতিও আশাব্যঞ্জক নয়। যিনি এমবিবিএস পাশ করা ডাক্তার উনাদেরকে কালে ভদ্রে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দেখা যায় এমন অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি কিছু কর্মরত স্টাফ সাধারণ মানুষের সাথে এমন ব্যবহার করে যে, কমপ্লেক্স থেকে প্রদত্ত ওষুধ সরকারি সেবা নয়; এটা তারা নিজেরা মানুষদেরকে দিচ্ছে। এমন রূঢ় আচরণের কারণে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে সাধারণ মানুষ মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। লোক মুখে শোনা যায়,মনপুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যারা চাকুরি করেন তাদের আত্নীয় স্বজনদেরও নাকি ওষুধ পত্র কিনতে হয় না। অথচ এই ওষুধগুলো সাধারণ মানুষের জন্য সরকারের অনুদান। কাজেই বিষয়গুলোকে সুষ্ঠু তদন্তের আওতায় এনে স্বাস্থ্য সেবা খাতকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় নিয়ে আসা অত্যন্ত জরুরী। এই একটি উপজেলার চিত্রই হয়তো সারা বাংলাদেশের সব স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সচিত্র তুলে ধরতে সক্ষম হবে না।


মনপুরার যোগাযোগ ব্যবস্থা

বিশেষ করে ২ নং হাজীরহাট ইউনিয়ন এর অধিকাংশ রাস্তা গুলো এখনো কাঁচা রাস্তা, খানা-খন্দে ভরপুর, সামান্য বৃষ্টিতে রাস্তাগুলো চলাচলের অনুপযোগী হয়ে উঠে। এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি রাস্তাটি পাকাকরণের, কিন্তু এখনো এই রাস্তা গুলো আলোর মুখ দেখছে না।

মনপুরার এই সকল রাস্তা গুলো দীর্ঘদিনের দাবি হলেও জনআকাঙ্খা মেটাতে কেউই যেমন এগিয়ে আসছে না ঠিক তেমনিভাবে কর্তৃপক্ষের নজরেও গোচরীভূত হচ্ছে না। কাজেই বিষয়গুলোকে ভাবনার মধ্যে নিয়ে এসে গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের জনসাধারণের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপদানের প্রচেষ্টা থাকতে হবে। এ ইউনিয়নের ন্যায় বাংলাদেশের অনেক ইউনিয়নের চিত্রও হয়তো খুঁজে পাওয়া যাবে। কিন্তু সে বিষয়গুলো হয়তো পত্রিকার পাতায় উঠে আসছে না। পত্রিকায় পাতায় উঠে আসছে উন্নয়ন কর্মকান্ডের খবর, পিছিয়ে পড়া জনসাধারণকে চলমান গতিতে নিয়ে আসতে হলে গ্রামীণ অবকাঠামোর ব্যাপক উন্নয়ন ঘটাতে হবে বিশেষ করে গ্রামীণ জনপদের যোগাযোগব্যবস্থা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে।


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর