শনিবার, ৭ই মার্চ ২০২৬, ২৩শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল nagorikdesk@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে ইরানই সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতে পারে: বিশ্লেষক
  • ব্যাংক একীভূতকরণের উদ্যোগ চলমান রাখার বার্তা গভর্নরের
  • ইসরায়েল-মার্কিন যৌথ হামলায় ইরানে নিহত বেড়ে ৫৫৫
  • আসিফ মাহমুদের ব্যাংক হিসাব তলব
  • অপরাধ দমনে আরও বেশি সক্রিয় পুলিশ
  • ঢাকার আইসিইউয়ে ওষুধ-প্রতিরোধী ছত্রাক ‘সুপারবাগ’ ছড়িয়ে পড়েছে
  • ভূমি প্রতিমন্ত্রী অফিসে গিয়ে দেখেন কর্মকর্তারা কেউ আসেননি
  • রাজধানীতে নারীদের জন্য আলাদা বাস চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
  • আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে খামেনিকে হত্যা, বিবৃতিতে বাংলাদেশ
  • মঙ্গলবার থেকে মিলবে ঈদযাত্রায় ট্রেনের টিকিট

গাজায় ধ্বংসস্তূপের নিচে মরদেহের স্তূপ, একদিনেই ৯৪ জনের দেহাবশেষ উদ্ধার

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত:
২১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:৪৯

দীর্ঘ দুই বছরের ভয়াবহ যুদ্ধের ক্ষত এখনো দগদগে গাজা উপত্যকায়। যুদ্ধবিরতির দুই মাস পর ধ্বংসস্তূপ সরাতেই বেরিয়ে আসছে একের পর এক নিথর দেহ। গতকাল শনিবার (২০ ডিসেম্বর) গাজা সিটির বিভিন্ন এলাকায় ভেঙে পড়া ভবনের নিচ থেকে একদিনেই ৯৪ জনের দেহাবশেষ উদ্ধার করেছেন বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা। এ ঘটনা গাজাবাসীর মনে আবারও যুদ্ধের সেই বিভীষিকাময় স্মৃতি জাগিয়ে তুলেছে।

তুরস্কের সরকারি সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত এই দেহাবশেষগুলো গাজার প্রধান চিকিৎসাকেন্দ্র আল-শিফা মেডিকেল কমপ্লেক্সের ফরেনসিক বিভাগে পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা শেষে দেইর আল-বালাহ এলাকার শহীদ কবরস্থানে তাদের সমাহিত করা হয়েছে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সিভিল ডিফেন্স কর্মকর্তাদের মতে, উদ্ধার হওয়া ৯৪ জনই ইসরায়েলি বিমান হামলায় ধসে পড়া ভবনের নিচে আটকা পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন। যুদ্ধের ভয়াবহ ডামাডোলে তখন তাদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি, যা এখন কঙ্কাল আর দেহাবশেষ হিসেবে বেরিয়ে আসছে। উদ্ধার হওয়া এই বিপুল সংখ্যার মধ্যে একই পরিবারের অনেক সদস্য রয়েছেন বলে জানা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, পুরো গাজাজুড়ে এখনো হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছেন। পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধান চালালে নিহতের এই সংখ্যা আরও বহুগুণ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পর্যাপ্ত ভারী যন্ত্রপাতির অভাব আর প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে এই মানবিক উদ্ধারকাজ পরিচালনা করা এখন অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর শুরু হওয়া এই সংঘাতের দুই বছরে গাজায় মানবিক বিপর্যয় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। ইসরায়েলি হামলায় গাজার হাসপাতাল, স্কুল ও আশ্রয়কেন্দ্রগুলো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এ পর্যন্ত অন্তত ৭০ হাজার ৭০০ ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭০ হাজারের বেশি মানুষ, যাদের বড় অংশই নারী ও শিশু। 

উপত্যকাজুড়ে এখন প্রায় ৬১ মিলিয়ন টন ধ্বংসাবশেষ জমে আছে, যা পরিষ্কার করা গাজার জন্য এক বিশাল মানবিক ও অবকাঠামোগত চ্যালেঞ্জ। ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ শুরু হলেও প্রতিটি ইটের নিচে চাপা পড়ে থাকা লাশের গন্ধ এখনও এক পৈশাচিক গণহত্যার সাক্ষ্য দিচ্ছে। 

 


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর