প্রকাশিত:
২২ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৮:২৩
মনপুরায় ভয়াবহ হারে ধ্বংস করা হচ্ছে পাঙ্গাস মাছের পোনা। নদী ও খালে নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করে প্রতিদিন হাজার হাজার পোনা ধরে ফেলা হলেও বিষয়টি দেখেও না দেখার ভান করছে উপজেলা মৎস্য অফিস। এতে একদিকে যেমন ভবিষ্যৎ মাছ উৎপাদন মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে, অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন প্রকৃত মৎস্যজীবীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চল ও নদীর শাখা-প্রশাখায় ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত অবাধে পোনা শিকার চলছে। বিশেষ করে সূক্ষ্ম জাল ও কারেন্ট জালের মাধ্যমে পাঙ্গাসের পোনাসহ অন্যান্য দেশীয় মাছের বাচ্চাও ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। এসব পোনা পরবর্তীতে বিক্রি করা হচ্ছে বিভিন্ন আড়ত ও বাজার হাটে।
স্থানীয় জেলেরা অভিযোগ করে বলেন, “পোনা ধরা বন্ধ না হলে আগামী কয়েক বছরে নদীতে মাছই থাকবে না। আমরা বারবার জানিয়েছি, কিন্তু মৎস্য অফিস কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
আইন অনুযায়ী, পোনা শিকার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং এটি দণ্ডনীয় অপরাধ হলেও বাস্তবে তার কোনো প্রয়োগ দেখা যাচ্ছে না। অভিযোগ রয়েছে, নিয়মিত তদারকি ও অভিযান না থাকায় প্রভাবশালী চক্রগুলো প্রকাশ্যেই এই অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
পরিবেশবিদ মো: মফিজুর রহমানের মতে, পাঙ্গাসের পোনা নিধন শুধু একটি মাছের ক্ষতি নয় এটি পুরো জলজ পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করছে। এতে ভবিষ্যতে মাছের উৎপাদন কমে যাবে এবং খাদ্য সংকটের ঝুঁকি তৈরি হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা মৎস্য অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার উজ্জ্বল বনিক বলেন, ( আমাদের লোকবল সংকট থাকায় আমরা ঠিক মতো অভিযান পরিচালনা করতে পারিনা ) । তারপরও আমরা ১১ নভেম্বর থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত প্রায় ৪৫ টি চাই এবং ২ টি নৌকা জব্দ করেছি । ( আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে )। তিনি আরও জানান, আমাদের লোক সংকট থাকার কারনে আমরা বাজার গুলো ঠিক ভাবে মনিটরিং করতে পারি না।
এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে অবৈধ পোনা শিকার বন্ধে কঠোর অভিযান, নিয়মিত নজরদারি এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হোক। তা না হলে মনপুরার নদী-খাল একদিন মাছশূন্য হয়ে পড়বে এ আশঙ্কাই এখন সবার মুখে মুখে।
মন্তব্য করুন: