প্রকাশিত:
৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১৮:০৫
চট্টগ্রামের বাজারজুড়ে নকল বা কাউন্টারফিট পণ্যের দাপটে ক্রমেই কোণঠাসা হয়ে পড়ছে আসল ও মানসম্মত পণ্য। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য থেকে শুরু করে ওষুধ, কসমেটিকস, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, কেবল, সাবান, বেভারেজ এমনকি শিশুখাদ্য পর্যন্ত—প্রায় সব খাতেই ছড়িয়ে পড়েছে নকল পণ্যের অবাধ উৎপাদন ও বিক্রি। এতে একদিকে যেমন ভোক্তারা প্রতারিত হচ্ছেন, অন্যদিকে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন বৈধ ব্যবসায়ী ও উৎপাদকরা।
সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও বাজার বিশ্লেষকদের মতে, কাউন্টারফিট পণ্য সাধারণত নামী-দামি ব্র্যান্ডের মোড়ক ও লোগো নকল করে বাজারজাত করা হচ্ছে। কম দামে বিক্রির কারণে অনেক ভোক্তা না বুঝেই এসব পণ্য কিনছেন। কিন্তু ব্যবহারের পরই দেখা দিচ্ছে মানহীনতা, দ্রুত নষ্ট হওয়া এবং ক্ষেত্রবিশেষে স্বাস্থ্যঝুঁকি। ফলে আসল পণ্যের প্রতি আস্থা কমে যাচ্ছে, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ব্র্যান্ডের সুনাম।
চট্টগ্রামসহ দেশের বড় শহরগুলোতে সম্প্রতি র্যাব, বিএসটিআই ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানে একাধিক নকল কারখানা ও গুদামের সন্ধান মিলেছে। অভিযানে দেখা গেছে, বিএসটিআইয়ের অনুমোদন ছাড়াই উৎপাদিত হচ্ছে সাবান, কেবল, সুইচ-সকেট, এলইডি বাল্বসহ বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ পণ্য। অনেক ক্ষেত্রে ওজন ও মানদণ্ডও ঠিক রাখা হচ্ছে না। এসব কারখানায় উৎপাদিত পণ্য সরাসরি খুচরা বাজারে চলে আসছে।আসল পণ্যের উৎপাদকরা বলছেন, নকল পণ্যের কারণে তাদের বিক্রি আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে। বৈধভাবে উৎপাদন করতে গিয়ে যেখানে কর, ভ্যাট, মান নিয়ন্ত্রণ ও শ্রমিক সুরক্ষার খরচ বহন করতে হয়, সেখানে নকলকারীরা এসবের কিছুই মানছে না। ফলে কম খরচে তারা বাজার দখল করে নিচ্ছে। এতে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে অনেক ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তা ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার ঝুঁকিতে পড়ছেন।ভোক্তা অধিকার বিশেষজ্ঞদের মতে, কাউন্টারফিট পণ্য শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতির বিষয় নয়, এটি জনস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি। বিশেষ করে নকল ওষুধ, কসমেটিকস ও বৈদ্যুতিক পণ্য ব্যবহারে মারাত্মক দুর্ঘটনা ও দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। অথচ অনেক ভোক্তা দামের লোভে বা সচেতনতার অভাবে এসব পণ্যের ফাঁদে পড়ছেন।
বিএসটিআই ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, নকল পণ্যের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলছে এবং জরিমানা ও কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে বাজারে এসব পণ্যের বিস্তার রোধে শুধু অভিযান নয়, উৎপাদক থেকে পাইকার, খুচরা বিক্রেতা—সব পর্যায়ে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। পাশাপাশি ভোক্তাদেরও সচেতন হতে হবে, পণ্য কেনার সময় বিএসটিআইয়ের মানচিহ্ন ও অনুমোদন যাচাই করতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কাউন্টারফিট পণ্যের লাগাম টানতে না পারলে একদিকে দেশীয় শিল্প মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে, অন্যদিকে ভোক্তা নিরাপত্তা আরও ঝুঁকির মুখে পড়বে। তাই আইনের কঠোর প্রয়োগের পাশাপাশি সমন্বিত উদ্যোগ ও জনসচেতনতার মাধ্যমেই এই সমস্যার টেকসই সমাধান সম্ভব।
মন্তব্য করুন: