শনিবার, ৭ই মার্চ ২০২৬, ২৩শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল nagorikdesk@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে ইরানই সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতে পারে: বিশ্লেষক
  • ব্যাংক একীভূতকরণের উদ্যোগ চলমান রাখার বার্তা গভর্নরের
  • ইসরায়েল-মার্কিন যৌথ হামলায় ইরানে নিহত বেড়ে ৫৫৫
  • আসিফ মাহমুদের ব্যাংক হিসাব তলব
  • অপরাধ দমনে আরও বেশি সক্রিয় পুলিশ
  • ঢাকার আইসিইউয়ে ওষুধ-প্রতিরোধী ছত্রাক ‘সুপারবাগ’ ছড়িয়ে পড়েছে
  • ভূমি প্রতিমন্ত্রী অফিসে গিয়ে দেখেন কর্মকর্তারা কেউ আসেননি
  • রাজধানীতে নারীদের জন্য আলাদা বাস চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
  • আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে খামেনিকে হত্যা, বিবৃতিতে বাংলাদেশ
  • মঙ্গলবার থেকে মিলবে ঈদযাত্রায় ট্রেনের টিকিট

চমেক হাসপাতালে ভীড় বাড়ছে ঠান্ডা জনিত আক্রান্ত শিশু ও বৃদ্ধ রোগীর সংখ্যা

মো.মোক্তার হোসেন বাবু, চট্টগ্রাম

প্রকাশিত:
১১ জানুয়ারী ২০২৬, ১৮:০১

শীতের তীব্রতায় চট্টগ্রামের দৈনন্দিন জীবন যেন ধীরে ধীরে স্তব্ধ হয়ে আসছে। ভোরের ঘন কুয়াশা আর রাতের হিমেল হাওয়ায় শহরের মানুষ কাঁপছে শীতে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে স্বাস্থ্যখাতে। হাসপাতালের ওয়ার্ডগুলোতে বাড়ছে শিশুদের কান্না, বৃদ্ধদের শ্বাসকষ্ট। সর্দি-কাশি, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও শ্বাসতন্ত্রের নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিনই বাড়ছে রোগীর সংখ্যা।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল সূত্র জানায়, শিশু বিভাগে দৈনিক ৫০ থেকে ৬০ জন নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছে। এদের বড় অংশই নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত। চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল এবং বেসরকারি হাসপাতালগুলোতেও একই চিত্র। বহির্বিভাগে রোগীর চাপ স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু ও ষাটোর্ধ্ব বয়স্করা।

জাতীয় পর্যায়েও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, নভেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে ঠান্ডাজনিত রোগে ৯৫ হাজারের বেশি মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ে মারা গেছেন অন্তত ৪৮ জন, যাদের অধিকাংশই শিশু ও বৃদ্ধ। চট্টগ্রাম এই পরিসংখ্যানে উল্লেখযোগ্য অংশ জুড়ে আছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, চলতি শীতে চট্টগ্রামে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমেছে ১৩ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা গত বছরের তুলনায় ২ থেকে ৩ ডিগ্রি কম। জানুয়ারিতে গড় তাপমাত্রাও স্বাভাবিকের নিচে রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কুয়াশার সঙ্গে ধুলোকণা মিশে বাতাসে দূষণ বাড়াচ্ছে, ফলে শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।

চমেক হাসপাতালের এক চিকিৎসক বলেন, শীত এলেই নিউমোনিয়া বাড়ে, তবে এবার ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্টের রোগী অস্বাভাবিকভাবে বেশি। শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকায় তারা দ্রুত আক্রান্ত হচ্ছে। অন্যদিকে বয়স্কদের ক্ষেত্রে ডায়াবেটিস, হৃদরোগ বা কিডনি সমস্যার মতো দীর্ঘস্থায়ী রোগ থাকলে জটিলতা আরও বাড়ছে।
চিকিৎসকদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে শীতের ধরন বদলাচ্ছে। ঠান্ডা দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। বিশেষ করে নগর এলাকায় বায়ুদূষণের সঙ্গে শীত মিলিত হয়ে পরিস্থিতি আরও খারাপ করছে।

এই অবস্থায় বিশেষজ্ঞরা সচেতনতাকেই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ হিসেবে দেখছেন। শিশু ও বৃদ্ধদের গরম কাপড় পরানো, মাথা ও কান ঢেকে রাখা, কুসুম গরম পানি পান করানো এবং ঠান্ডা বাতাস এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি হাত ধোয়ার অভ্যাস, ভিড় এড়িয়ে চলা ও প্রয়োজন হলে মাস্ক ব্যবহারের ওপর জোর দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। অপ্রয়োজনে অ্যান্টিবায়োটিক না খাওয়ারও পরামর্শ রয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ শিশু ও বয়স্কদের জন্য নিউমোনিয়া ও ইনফ্লুয়েঞ্জার টিকা নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ ও পর্যাপ্ত পানি পান করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর