প্রকাশিত:
১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১৩:৫৪
ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে আরও এক ধাপ এগোতে পারে কর্তৃপক্ষ। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, ২৬ বছর বয়সী তরুণ বিক্ষোভকারী এরফান সোলতানির মৃত্যুদণ্ড আজই কার্যকর করা হতে পারে।
এরফানকে গ্রেপ্তারের পর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে বিচার, দোষী সাব্যস্ত করা এবং মৃত্যুদণ্ড ঘোষণার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়—যাকে মানবাধিকার কর্মীরা ‘ন্যূনতম ন্যায়বিচারবিহীন দ্রুত বিচার’ হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন।
কারাজ শহরে বিক্ষোভ চরমে ওঠার সময় নিজ বাসা থেকে আটক করা হয় এরফানকে। পরে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হলে পরিবার ও আইনজীবীর সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এই পরিস্থিতিকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো জোরপূর্বক নিখোঁজের ঝুঁকির সঙ্গে তুলনা করছে।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, ইরানি কর্তৃপক্ষ ভিন্নমত দমনে মৃত্যুদণ্ডকে ভয়ের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। দ্রুত বিচার, স্বচ্ছতার অভাব এবং অভিযুক্তদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দেওয়ার অভিযোগ নতুন নয়।
বিশ্বে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সংখ্যায় ইরান শীর্ষস্থানীয় দেশগুলোর একটি। মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলোর হিসাব অনুযায়ী, গত বছর দেশটিতে শত শত মানুষের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে, যার বড় অংশই রাজনৈতিক বা নিরাপত্তা-সংক্রান্ত মামলার সঙ্গে যুক্ত।
২০২২ সালের পর ইরানে শুরু হওয়া সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী আন্দোলন এখনো অব্যাহত রয়েছে। শুরুতে অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদ থেকে জন্ম নেওয়া এই আন্দোলন দ্রুত রাজনৈতিক রূপ নেয়। নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়নে হাজারো মানুষ নিহত ও গ্রেপ্তার হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ইরান সরকার বরাবরের মতো এসব বিক্ষোভের পেছনে বিদেশি ষড়যন্ত্রের কথা বললেও মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ দমন করতে রাষ্ট্রীয় সহিংসতা ও মৃত্যুদণ্ডের ব্যবহার আন্তর্জাতিক আইনের সরাসরি লঙ্ঘন।
এরফানের সম্ভাব্য মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ইরানে চলমান মানবাধিকার সংকটকে আরও গভীর করবে—এমন সতর্কবার্তা দিচ্ছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।
মন্তব্য করুন: