প্রকাশিত:
১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫:০০
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হয়েছে। রায়ে শীর্ষ পর্যায়ের দমন-পীড়ন, হত্যাকাণ্ড এবং তা বাস্তবায়নে সরাসরি নির্দেশনার বিস্তারিত তথ্য উঠে এসেছে।
৪৫৭ পৃষ্ঠার রায়ে উল্লেখ করা হয়, আন্দোলন দমনে শেখ হাসিনা তৎকালীন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ফজলে নূর তাপস এবং জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর সঙ্গে ফোনালাপে ড্রোন ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের অবস্থান শনাক্ত, হেলিকপ্টার মোতায়েন এবং মারণাস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দেন। এসব নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ঢাকার চানখাঁরপুলে ছয়জন আন্দোলনকারীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। একই দিনে সাভারের আশুলিয়ায় আরও ছয়জনকে হত্যার পর তাদের মরদেহ পুড়িয়ে ফেলার ঘটনা ঘটে।
রায়ে বলা হয়, এসব ঘটনায় আসামিরা সরাসরি জড়িত ছিলেন এবং অধস্তনদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে কোনো বাধা দেননি। এ কারণে ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন এবং তাদের দেশে থাকা সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেন।
রায়ে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই গণভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনার উসকানিমূলক বক্তব্য এবং একই রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্যের সঙ্গে ফোনালাপে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশের ধারাবাহিকতায় রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
মামলায় মোট পাঁচটি অভিযোগের আওতায় ছয়টি পৃথক ঘটনার বিচার করা হয়। এর মধ্যে আন্দোলনকারীদের ‘রাজাকার’ আখ্যা দেওয়া, প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ, রংপুর, চানখাঁরপুল ও আশুলিয়ার হত্যাকাণ্ডের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল।
এই ঐতিহাসিক মামলায় গণ-অভ্যুত্থানে নিহতদের স্বজনসহ ৫৪ জন সাক্ষ্য দেন। স্টার উইটনেস হিসেবে বক্তব্য দেন জুলাই আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারীরা ও বিশিষ্ট নাগরিকরা। এছাড়া রাজসাক্ষী হওয়ায় সাবেক আইজিপিকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
মন্তব্য করুন: