শনিবার, ৭ই মার্চ ২০২৬, ২৩শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল nagorikdesk@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে ইরানই সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতে পারে: বিশ্লেষক
  • ব্যাংক একীভূতকরণের উদ্যোগ চলমান রাখার বার্তা গভর্নরের
  • ইসরায়েল-মার্কিন যৌথ হামলায় ইরানে নিহত বেড়ে ৫৫৫
  • আসিফ মাহমুদের ব্যাংক হিসাব তলব
  • অপরাধ দমনে আরও বেশি সক্রিয় পুলিশ
  • ঢাকার আইসিইউয়ে ওষুধ-প্রতিরোধী ছত্রাক ‘সুপারবাগ’ ছড়িয়ে পড়েছে
  • ভূমি প্রতিমন্ত্রী অফিসে গিয়ে দেখেন কর্মকর্তারা কেউ আসেননি
  • রাজধানীতে নারীদের জন্য আলাদা বাস চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
  • আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে খামেনিকে হত্যা, বিবৃতিতে বাংলাদেশ
  • মঙ্গলবার থেকে মিলবে ঈদযাত্রায় ট্রেনের টিকিট

চট্টগ্রামে ভয়াবহ সিলিন্ডার গ্যাস সংকটকে পুঁজি করে বাড়তি দামে বিক্রির অভিযোগ

মো.মোক্তার হোসেন বাবু,চট্টগ্রাম ব্যুরো

প্রকাশিত:
১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫:০৯

দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে সিলিন্ডার গ্যাস সংকট। নগরী ও আশপাশের উপজেলাগুলোতে এলপিজি সিলিন্ডার না পাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। গৃহস্থালির রান্নাঘর থেকে শুরু করে হোটেলুরেস্তোরাঁ, বেকারি ও ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান—সবখানেই কার্যত অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে। কোথাও খালি সিলিন্ডার থাকলেও ভরতি গ্যাস মিলছে না। আবার যেসব দোকানে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে কয়েক শ টাকা বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।

গত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চট্টগ্রাম নগরের আগ্রাবাদ, চকবাজার, বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, অক্সিজেন, হালিশহর, পতেঙ্গা, বাকলিয়া ও বন্দর এলাকায় এই সংকট তীব্র হয়ে উঠেছে। অনেক এলপিজি বিক্রয়কেন্দ্রে ‘গ্যাস নেই’ লেখা নোটিশ ঝুলতে দেখা গেছে। কোথাও আবার সীমিত সংখ্যক সিলিন্ডার বিক্রি করা হচ্ছে। ফলে সকাল থেকেই দোকানের সামনে দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে।
গ্যাস সংকটের সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষ। বহু পরিবার রান্না করতে না পেরে ইলেকট্রিক কুকার, ইনডাকশন বা বাইরের খাবারের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে দৈনন্দিন খরচ বেড়ে গেছে কয়েক গুণ।
মুরাদপুর এলাকার গৃহিণী রাশেদা বেগম বলেন,“তিন দিন ধরে গ্যাস শেষ। পাঁচটি দোকানে ঘুরেও সিলিন্ডার পাইনি। বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে খাবার কিনতে হচ্ছে। সংসারের খরচ সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে।”
এলপিজি নির্ভর হোটেলুরেস্তোরাঁ ও খাবার দোকানগুলোও বড় ধরনের সংকটে পড়েছে। অনেক ব্যবসায়ী জানান, অতিরিক্ত দামে গ্যাস কিনে ব্যবসা চালানো সম্ভব হচ্ছে না। কেউ কেউ সময় কমিয়ে দোকান চালাচ্ছেন, আবার কেউ সাময়িকভাবে ব্যবসা বন্ধ রাখছেন।
চকবাজারের এক হোটেল মালিক বলেন, “আগে নির্ধারিত দামে গ্যাস পাওয়া যেত। এখন সিলিন্ডার পেতে ২০০ু৩০০ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে। এতে প্রতিদিন লোকসান গুনতে হচ্ছে।”
ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এলপিজি সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা, আমদানিজনিত জটিলতা এবং পরিবহন সংকটের কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি একাধিক জায়গায় কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগ উঠেছে। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী গ্যাস মজুত রেখে বাজারে সংকট তৈরি করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর দাবিদাওয়া ও কর্মসূচির প্রভাবও সরবরাহ ব্যবস্থাকে ব্যাহত করেছে।

ভোক্তারা অভিযোগ করছেন, গ্যাস সংকটকে পুঁজি করে এক শ্রেণির ব্যবসায়ী সরকার নির্ধারিত মূল্য উপেক্ষা করে ইচ্ছামতো দাম হাঁকাচ্ছেন। একই ধরনের সিলিন্ডার একেক এলাকায় একেক দামে বিক্রি হচ্ছে, যা বাজারে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে।

সংকট নিরসনে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভোক্তারা। দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করা, বাজারে কঠোর নজরদারি বাড়ানো এবং অতিরিক্ত দামে বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চট্টগ্রামের মতো শিল্প ও বাণিজ্যনির্ভর নগরীতে এলপিজি সংকট শুধু গৃহস্থালির সমস্যা নয়; এটি সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। দ্রুত সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে এই সংকট আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর