প্রকাশিত:
২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:২৩
শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি রেজাউল করিমকে ইট দিয়ে থেঁতলে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জেলা জামায়াতের আমির হাফিজুর রহমান।
আজ বৃহস্পতিবার প্রথম আলোকে তিনি বলেন, খুব দ্রুত মামলা করা হবে। হত্যার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন তিনি।
গতকাল বুধবার শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আয়োজিত নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে সংঘর্ষে আহত হয়েছিলেন রেজাউল করিম। তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তাঁকে শেরপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে রাত সাড়ে নয়টার দিকে তিনি মারা যান।

নিহত মাওলানা রেজাউল করিম ফতেহপুর ফাজিল মাদ্রাসার আরবি প্রভাষক এবং স্থানীয় একটি মসজিদের ইমাম হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন।
স্থানীয় সূত্র ও উপজেলা প্রশাসন জানায়, ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে একটি নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সকাল থেকেই বিভিন্ন দলের প্রার্থী ও তাঁদের সমর্থকেরা অনুষ্ঠানস্থলে জড়ো হতে থাকেন। অনুষ্ঠানের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেল এবং প্রার্থীরা মঞ্চে ওঠার পর সামনের সারিতে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের কর্মীদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী শ্রীবরদী উপজেলার গজরিপা ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি আবদুল মান্নান বলেন, ‘বিএনপির নেতাকর্মীরা আমাদের ধাওয়া দেয়। এ সময় রেজাউল করিমকে তারা ধরে ফেলে এবং পরে ইট দিয়ে থেঁতলে দেয়।’
আজ বৃহস্পতিবার সকালে নিহত রেজাউল করিমের বাড়ি গজরিপা ইউনিয়নের চাউলিয়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, রেজাউল করিমের জন্য কবর খোঁড়া হচ্ছে। পুরো গ্রাম শোকে স্তব্ধ হয়ে আছে। মানুষ জড়ো হচ্ছেন তাঁর বাড়িতে। সবাই অপেক্ষায় আছেন মরদেহের। স্থানীয় বাসিন্দা আজিজুর রহমান বলেন, ‘রেজাউল খুবই ভালো মানুষ ছিলেন। এলাকায় তাঁর যথেষ্ট জনপ্রিয়তা ছিল। তাঁর মৃত্যুতে পুরো গ্রাম স্তব্ধ। আমরা এর বিচার চাই।’
মন্তব্য করুন: