শনিবার, ৭ই মার্চ ২০২৬, ২৩শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল nagorikdesk@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে ইরানই সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতে পারে: বিশ্লেষক
  • ব্যাংক একীভূতকরণের উদ্যোগ চলমান রাখার বার্তা গভর্নরের
  • ইসরায়েল-মার্কিন যৌথ হামলায় ইরানে নিহত বেড়ে ৫৫৫
  • আসিফ মাহমুদের ব্যাংক হিসাব তলব
  • অপরাধ দমনে আরও বেশি সক্রিয় পুলিশ
  • ঢাকার আইসিইউয়ে ওষুধ-প্রতিরোধী ছত্রাক ‘সুপারবাগ’ ছড়িয়ে পড়েছে
  • ভূমি প্রতিমন্ত্রী অফিসে গিয়ে দেখেন কর্মকর্তারা কেউ আসেননি
  • রাজধানীতে নারীদের জন্য আলাদা বাস চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
  • আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে খামেনিকে হত্যা, বিবৃতিতে বাংলাদেশ
  • মঙ্গলবার থেকে মিলবে ঈদযাত্রায় ট্রেনের টিকিট

ফুলের জন্য ... বিশেষ ভালোবাসা

রেহানা ফেরদৌসী

প্রকাশিত:
২৯ জুন ২০২৫, ১৮:২৯

অটিস্টিক শিশু জন্মের জন্য তাঁর বাবা-মা দায়ী নয়। কিছু শারিরীক সমস্যার কারণে এমনটি হয়ে থাকে। কিন্তু কুসংস্কার বশত প্রায়ই দোষারোপ করা হয় পিতা-মাতা কিংবা বংশের উপরে। অনেকে অটিস্টিক শিশুটিকে জীনে ধরেছে বলে মনে করেন। এছাড়াও অনেক সময় বিভিন্ন কারণের প্রেক্ষিতে পরিবার থেকেই অটিস্টিক সদস্যটি পালনের প্রতি চলে আসে অনীহা, অবজ্ঞা। এসব বাধা ভেঙে ... আমাদের মেনে নিতে হবে তাদের অসাধারণতা কে। তাদের প্রতি কিছুটা বাড়তি যতœ ও ভালোবাসাই পারবে সমাজে তাদের নিজ পরিচয় তুলে ধরতে!

অটিস্টিক আসলে কি?
আত্মসংবৃতি বা আত্মলীনতা (অটিজম নামেও পরিচিত) বলতে একটি মানসিক বিকাশে বাধাগ্রস্ততাকে বোঝায়, যা বয়স তিন বছর হবার পূর্বেই প্রকাশ পায়। আত্মসংবৃত শিশুরা (ইংরেজি পরিভাষায় অটিস্টিক বলা হয়) সামাজিক আচরণে দুর্বল হয়, পারস্পরিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে কম সক্ষম হয়।
অটিজম কোনো পুষ্টিহীনতা নয়। এটা মস্তিস্কের বিকাশজনিত একটি সমস্যা- যার সূত্রপাত মায়ের গর্ভ থেকেই। সকল গর্ভবতী মা’কে ৮-১৬ সপ্তাহ অত্যন্ত যতেœর সাথে খাবার গ্রহণ করা উচিত। কোনোভাবে যদি এসময় মার্কারিজাতীয় খাবার, সি-ফিস অথবা সি-প্রোডাক্ট, স্টার ফ্রুট বেশী খাওয়া হয় তাহলে পরবর্তিতে গর্ভস্থ্য শিশুর বিভিন্ন ধরণের মানসিক সমস্যা হতে দেখা গেছে। যদিও অটিজমের সুনির্দিষ্ট কারণ আজও অজানা। শিশুদের বয়স জন্মের ১৮ মাস থেকে ৩৬ মাস বয়সের মধ্যে যদি ব্যবস্থা নেয়া যায় তাহলে যথোপযুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থা, পুষ্টি ব্যবস্থাপনা এমনকি প্রশিক্ষিত অটিজম থেরাপিস্টের মাধ্যমে থেরাপি প্রদানের ফলে স্বাভাবিক জীবনে ফেরানো যেতে পারে। শুধু তাই নয়, যদি পরবর্তিতেও প্রকাশ পায়, সেক্ষেত্রেও সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছায় আর মা-বাবা ও পরিবারের চেষ্টায় অনেকটাই স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে পারে।

অটিস্টিক শিশুর বৈশিষ্ট্য ঃ
অটিস্টিক শিশুদের মধ্যে খিঁচুনি (মৃগী), অতিচঞ্চলতা (হাইপার অ্যাক্টিভিটি), বুদ্ধির ঘাটতি, হাতের কাজ করতে জটিলতা, হজমের সমস্যা, দাঁতের সমস্যা, খাবার চিবিয়ে না খাওয়া ইত্যাদি সমস্যা থাকতে পারে।
* অটিজম ও খাদ্য-পুষ্টি ঃ
যদিও খাদ্যজনিত কারণে অটিজম হয় না। তবে গ্লুটিন ও কেজিনযুক্ত খাবার পরিহার, রক্তের শর্করার ভারসাম্য রক্ষা, ভিটামিন ও মিনারেলসের ঘাটতি পূরন, থাইরয়েডের কার্যকারীতা বৃদ্ধির মাধ্যমে অটিজম বাচ্চার অতি চঞ্চলতা, আক্রমনাত্মক আচরণ, মনোযোগ স্বল্পতা, চক্ষু যোগাযোগহীনতা, বিকৃত অঙ্গভঙ্গি ও অন্যান্য উপসর্গের তীব্রতা কমানো যেতে পারে।
* অটিজমের সমস্যা সমাধানে খাবারের গুরুত্ব ঃ
১। গ্লুটিন ও কেজিনযুক্ত খাবার বর্জন করতে হবে - অটিজম শিশুদের খাদ্যে গ্লুটিন (গম, যব, বার্লি, রাই, ইস্ট ইত্যাদি) ও কেজিন (দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার) বর্জন করতে হবে। কারণ গ্লুটিন ও কেজিনযুক্ত খাবার অটিজম শিশুদের ত্রুটিপূর্ণ পাচন, শোষণ ও বিপাক ঘটায়, ফলে শিশুদের মধ্যে অস্থিরতার সৃষ্টি হয়। সেজন্য খাদ্য তালিকা থেকে গ্লুটেন ও কেজিনযুক্ত খাবার ধীরে ধীরে সরিয়ে ফেলার মাধ্যমে অতি অস্থিরতার পরিমাণ কমানো যায়।
২। অটিজম শিশুদের রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা অস্বাভাবিক দেখা যায় অর্থাৎ গ্লুকোজের মাত্রা ক্রমাগত বাড়তে থাকে। এতে শিশুদের মধ্যে একাগ্রতা, হাইপারএ্যাকটিভিটি বা অস্থিরতার মাত্রা বৃদ্ধি পায়। তাই অটিজম শিশুদের খাবারে সরাসরি চিনি বা মিষ্টি না দেয়াই ভালো।
৩। বেশীরভাগ অটিস্টিক শিশুদের হাইপোথায়রয়েডিজম দেখা দেয়। মানসিক অক্ষমতা, কথায় অস্পষ্টতা ও স্নায়ুবিক দূর্বলতা এই কারণেই দেখা যায়। তাই থায়রয়েড হরমোন তৈরীর জন্য সামুদ্রিক মাছ, আয়োডিনযুক্ত লবণ খাওয়ালে শিশুর মানসিক উন্নয়ন ঘটানো যায়।
৪। অটিস্টিক শিশুদের তাদের খাদ্যে যদি ভিটামিন এ (উৎস : মায়ের বুকের দুধ, কডলিভার অয়েল, ছোট মাছ, গাজর, পাকা পেঁপে, মিষ্টি কুমড়া, টমেটো, কলিজা, ডিম, পালংশাক, পাকা আম ইত্যাদি) খাওয়ানো হয় তাহলে শিশুদের দৃষ্টিশক্তির বৃদ্ধির পাশাপাশি চোখ রেখে কথা বলার প্রবণতা বাড়বে। পাশাপাশি ভিটামিন বি৬, ভিটামিন সি ও ম্যাগনেসিয়াম দিলে শিশুর ব্রেণের কার্যক্ষমতা বাড়বে।
৫। দেশী বিভিন্ন ধরনের মৌসুমী শাক ও সবজি, দেশী যে কোন মৌসুমী ফল ও ঘরে বানানো চিনি ছাড়া ফ্রেশ জুস, এপ্রিকট ইত্যাদি খাবার এ শিশুদের জন্য উপকারী।
এছাড়াও প্রোটিনের জন্য নদী ও সাগরের মাছ, ডিম, বিভিন্ন ধরনের বাদাম, আখরোট, বিভিন্ন ধরনের সীম ও সীমের বিচি, বিভিন্ন ধরনের ডাল।
দুধের কেজিনের বিকল্প হিসাবে- সয়াদুধ, অ্যালমন্ড বাটার বা অ্যালমন্ড মিল্ক অথবা অন্যান্য বাদামের তৈরী দুধ ইত্যাদি।
চিনি বা মিষ্টি কিছুর পরিবর্তে খোরমা দেয়া যাবে। প্রাকৃতিকভাবে তৈরী মধু মাঝে মাঝে দেয়া যাবে।
৬। চিনি, জাংক ফুড, চকোলেট, চিপস, বাণিজ্যিক ভাবে তৈরী জুস, কোমল পানীয়, ফাস্ট ফুড, ফ্রোজেন ফুড, প্রসেসড খাবার, প্রসেসড মাংস, পাউরুটি, বেক করা খাবার, বিভিন্ন ধরনের সিরিয়াল, কুকিস, পিজ্জা, বিভিন্ন ধরনের ক্রেকার, দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার, পনির, আইসক্রিম, দধি ইত্যাদি এ শিশুদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।

অটিস্টিক শিশুর প্রতি সকলের যত্নঃ
১। অটিস্টিক শিশুর পরিবার কে যখন কোন অনুষ্ঠানে দাওয়াত দেয়া হয়, অবশ্যই আমরা বলে দিতে পারি, তার সেই সন্তানকেও সে অনুষ্ঠানে নিয়ে আসার জন্য।
২। অনুষ্ঠানে যদি আসেন তবে সেই বাচ্চাটির প্রতি আমরা একটু বেশি মনোযোগ দিতে পারি যাতে সে নিজেকে গুরুত্বপূর্ণভাবে এবং তার মা-বাবার সংকোচও কেটে যায়।
৩। আমরা বাচ্চাটির সামনে তার প্রশংসা করতে পারি। এই প্রশংসা যেমন বাচ্চাটিকে খুশি করবে ঠিক একই ভাবে খুশি করবে তার মা- বাবাকেও।
সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে দেই ঃ
সমাজের প্রতিটি মানুষই একে অপরের থেকে ভিন্ন। কিন্তু এরপরেও এই ভিন্নতা তাদের সম্পর্ক তৈরিতে কোনো দেয়াল সৃষ্টি করে না। অটিজম সহমর্মিতার দৌলতে সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে আরো জোরদার করা প্রয়োজন এবং তা প্রতিটি মানুষেরই প্রাপ্য।
সহমর্মিতার ফলে একজন আত্মসংবৃত মানুষ যখন তার অধিকার পাবে, তখন সেও চেষ্টা করবে আরেকজন আত্মলীন মানুষের প্রতি সহমর্মি হতে। নিদেনপক্ষে এই সহমর্মিতা কোনো অনুগ্রহ বা বদান্যতা নয়। এটি মানবাধিকার এবং একটি নৈতিক দায়িত্ব।

আসুন ... মায়া ছড়িয়ে দেই!
তারা তো আমাদের-ই সন্তান!

 

 


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর